ভয়ঙ্কর আম্পায়ারিংয়ে জেতানো হলো অস্ট্রেলিয়াকে!

স্পোর্টস ডেস্ক, ৭ জুন : বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টও আম্পায়ারিং বিতর্ক থেকে রেহাই পেল না। একটা-দুটি নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে অন-ফিল্ড আম্পায়ার ক্রিস গাফনি একাধিকবার ভুল সিদ্ধান্ত নিলেন। আর তার জের ধরে শেষ পর্যন্ত ১৫ রানে ম্যাচ জিতে নিলো অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার ট্রেন্ট ব্রিজে সবচেয়ে বড় ভুলটি সম্ভবত ক্রিস গেইলের আউটের সময় করলেন গাফনি। যে বলটিতে গেইল আউট হলেন, তার ঠিক আগে বড়সড় নো-বল করেছিলেন মিচেল স্টার্ক। কিন্তু, ক্রিস গাফনি অত বড় নো-বলটিও দেখতে পাননি। কাকতালীয়ভাবে পরের বলেই আউট হন গেইল। যদি গাফনি নো-বলটি দেখতে পেতেন, তাহলে গেইলের আউটের বলটি ফ্রি-হিট হতে পারত।

শুধু তাই নয়, এর আগেও দু’বার স্টার্কের বলেই গেইলকে আউট দিয়েছিলেন গাফনি। কিন্তু, দু’বারই ডিআরএসের সাহায্যে নিজের উইকেট বাঁচিয়ে নেন তিনি। তৃতীয়বারের বেলায় অবশ্য গাফনির সিদ্ধান্তই সঠিক বিবেচিত হয়, এবং গেইলকে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়। কিন্তু সেই বলটিও ফ্রি-হিট হতে পারত। এদিন, ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক জ্যাসন হোল্ডারকেও দু’বার ভুল আউট দেয়া হয়। তিনিও ডিআরএসের সাহায্য নিয়ে নিজের উইকেট বাঁচান। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমানের টুর্নামেন্টে আম্পায়ারের কি আরো সজাগ থাকা উচিত ছিল না?

এদিকে এই বিতর্কের মাঝেই, শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে নিলো অস্ট্রেলিয়া। ট্রেন্ট ব্রিজে এদিন টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও পরে স্মিথ এবং কুলটার-নাইলের অনবদ্য ইনিংসের সুবাদে ২৮৮ রানের লড়াকু স্কোরে পৌঁছায় অজিরা। এদিন দুর্দান্ত এক রেকর্ডের মালিক হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অল-রাউন্ডার নাথান কুলটার-নাইল। ৮ নম্বরে ব্যাট করতে এসে মাত্র ৬০ বলে ৯২ রান করেন তিনি। যা আট নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপে নয়া নজির। এর আগে জিম্বাবোয়ের হিথ স্ট্রিকের দখলে ছিল এই রেকর্ড। তিনি আট নম্বরে ব্যাট করতে এসে করেছিলেন ৭২ রান।

২৮৯ রানের লক্ষমাত্রা নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের শুরু থেকেই একের পর এক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে, অধিনায়ক হোল্ডার এবং হোপ ক্যারিবিয়ানদের লড়াইয়ে রাখেন। হোপ ৬৮ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। হোল্ডার করেন ৫১ রান। কিন্তু, তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। লড়াই করেও ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি অধিনায়ক হোল্ডার। টানটান ম্যাচে শেষ পর্যন্ত অজিরা জেতে ১৫ রানে। অস্ট্রেলিয়ার তরফে পাঁচ উইকেট পান স্টার্ক।