মানুষের পূর্বপুরুষ হোমো নালেডি!

হোমো স্যাপিয়েন্স (Homo sapiens) তার বুদ্ধিমত্তা আর কাজের দ্বারা প্রাণিজগতে পেয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের আসন। কিন্তু আমরা আমাদের পূর্বপুরুষ সম্পর্কে ঠিক কতটা জানি?

২০১৩ সালের ঘটনা। একজন অপেশাদার ভূতত্ত্ববিদ একটি জীবাশ্ম চোয়ালের হাড় লি বার্গারের বাড়িতে নিয়ে আসেন। লি বার্গার হলেন জোহানেসবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকায় উইটওয়াটারসর‌্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি তার হাতে হাড়টি নিয়েই বুঝতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদঘাটন করতে চলেছেন তারা।

জোহানেসবার্গের ইউনিভার্সিটি অব উইটওয়াটারসর‌্যান্ডের গবেষক দলটি ২০১৩ সালে রাইজিং স্টার গুহার চুনাপাথরের টানেলে জীবাশ্মগুলোর সন্ধান পান।জীবাশ্মগুলোর নাম দেওয়া হয় হোমো নালেডি। নালেডির মানুষের সাথে পাওয়া যায় অনেক মিল।তখন প্রশ্ন জাগে অনেকেরই, “তবে কি মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস আবার নতুন করে লেখার সময় এসে গেল? নিয়ান্ডারথাল আর হোমো সেপিয়েন্সের মধ্যে রয়েছে কি আরো একটি মানব প্রজাতি? একই সঙ্গে মানুষের দুটি প্রজাতিরও কি মেলবন্ধন হয়েছিল কোনো সময়ে?”

বিজ্ঞানীদের অনুমান, হোমো নালেডিদের হাত, কব্জি এবং পায়ের পাতা আধুনিক মানুষদেরই মতো আর দেহের উর্ধাংশ ও মগজের আকার মানুষের আদিতম পূর্ব পুরুষদের মতোই ছোট। এরা হাতে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে কাজ করত। তবে এদের আঙ্গুলগুলো বেশি বাঁকানো। তার মানে এরা কোন কিছু বেয়ে ওপরে উঠতে পারত।

এখন প্রশ্ন হল এই হোমো নালেডিদের হাড় গভীরতম গুহার চেম্বারে কিভাবে গেল? এরা জীবিত অবস্থায় কিভাবে জীবন যাপন করত?

হোমো নালেডি সম্ভবত আদিম দু’পেয়ে প্রাইমেট ও আধুনিক মানুষের মধ্যবর্তী কোন প্রজাতি। তবে যে সকল গবেষক এই আবিষ্কার করেছেন তারা নিশ্চিতভাবে জানেন না হোমো নালেডি ঠিক কত বছর আগে পৃথিবীতে বসবাস করত।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক লী বার্জার জানান, এই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে ধর্মীয় আচারানুষ্ঠান পালনের অভ্যেস ছিল। যে কঙ্কাল পাওয়া গেছে তার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হচ্ছে- নালেডি গ্রুপেরই অন্য সদস্যরা, মাটির নিচে অত্যন্ত সরু এবং অন্ধকার একটি রাস্তা ধরে খুব সতর্কভাবে এই গুহার ভেতরে এসেছিল।

sd

৪৭ সদস্যের আন্তর্জাতিক দল দ্বারা ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হোমো নালেডি খননের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। হোমো নালেডির জীবাশ্মগুলো মিলেছে জোহানেসবার্গ থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুহায়। গুহা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত। সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই অনুসন্ধান চালিয়ে আসছেন জোহানেসবার্গের ইউনিভার্সিটি অব উইটওয়াটারসর‌্যান্ডের গবেষক দলটি।

৩০০ টি হাড় ডিনাল্যাডির চেম্বারের পৃষ্ঠ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বাকি ১২৫০ টি জীবাশ্মের নমুনা খনন করে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের শরীরের উচ্চতা পাঁচ ফুটের মতো, ওজন ছিল প্রায় ৪৫ কেজি। এদের মগজ অনেকটা কমলালেবুর মতো। আবিষ্কৃত ১৫৫০ টি কঙ্কালের মধ্যে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের হাড় পাওয়া গেছে। রয়েছে নবজাতক থেকে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হাড়ও।