মাথাব্যথার কারণ সাইনোসাইটিস, কী করবেন

মাথাব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা থাকলে তা দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।

মাথাব্যথার ৩০০-এর বেশি কারণ থাকলেও সাধারণ কারণগুলোকে প্রধানত তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়-

১. মস্তিষ্কের স্নায়ু ও শিরাসংক্রান্ত (নিউরোভাসকুলার) মাথাব্যথা : এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যেটি দেখা যায় তা হলো মাইগ্রেন ও দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা।

২. চোখসংক্রান্ত মাথাব্যথা।

৩. সাইনাসজনিত মাথাব্যথা।

যে কোনো ক্রনিক বা দীর্ঘদিনের সমস্যা- দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে হয়ে থাকে। ক্রনিক মাথাব্যথার সঙ্গে সাইনাস ও নাকের লক্ষণ যেমন- নাক বন্ধ, সর্দি, জ্বর জ্বর ভাব জড়িত, সেসব মাথাব্যথা মূলত সাইনাসজনিত কারণেই হয়ে থাকে।

নাক ও চোখের চারপাশে হাড়ের ভেতরে কিছু বায়ুকোষ বা কুঠুরিকে সাইনাস বলা হয়।

নাক ও সাইনাসগুলোর আবরণী একই এবং সাইনাসগুলো নাকের আবরণীর সম্প্রসারিত অংশ দিয়ে আবৃত। এ জন্য নাকে কোনো প্রদাহ হলে একই সমস্যায় সাধারণত সাইনাসও আক্রান্ত হয় এবং নাক ও সাইনাসের সমস্যাগুলো মূলত পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

উপসর্গ
মাথাব্যথা, মাথা ভার ভার লাগা ও মাথা বদ্ধভাব, নাক বন্ধ, নাক ভারী হয়ে থাকা, নাক দিয়ে অবিরাম বা ঘন ঘন পানি পড়া, নাকে গন্ধ না পাওয়া, মাঝে মাঝে বেশ জ্বর ওঠা বা সবসময় হালকা হালকা জ্বর ভাব থাকা, সবসময় শারীরিক দুর্বলতা, নাক ডাকা ও ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা দম বন্ধ হয়ে আসা বা স্লিপ এপনিয়া সিনড্রোম এগুলো সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে অন্যতম।

কী করবেন
ধুলা, ধোঁয়া, ঠাণ্ডা থেকে দূরে থাকা, বাড়িতে কার্পেট ব্যবহার না করা, ফোম দিয়ে তৈরি আসবাবপত্র ব্যবহার না করা।

কুসুম কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে দিনে কয়েকবার নাক পরিষ্কার করা (এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ) অথবা গরম ভাপ নেয়া। নাকের ভেতর কোনো কেমিক্যাল যেমন- বেনজিন, মেন্থলজাতীয় পদার্থ ব্যবহার না করা।

ইএনটি পরীক্ষা
সার্বিকভাবে নাক, কান ও গলার পরীক্ষা করানো– এ ব্যাপারে অত্যাবশ্যক। আর সমস্যা তীব্র হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।