কমলদহ ট্রেইল: একই পথে অসংখ্য ঝরনা একদিনে

বর্ষার শেষ, শরতের শুরু—ঝরনা দেখার এরচেয়ে ভালো সময় আর কী হতে পারে! ঝরনার ভরা যৌবন, চারদিকে সবুজ আর সবুজ, পাখ-পাখালির ডাক; এমন আবহে মন ভালো না হয়ে উপায় আছে কি? সবুজ প্রান্তর আর পথের পর পথ পেরিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে কমলদহ ট্রেইলে যেতে পারেন।

সমগ্র মিরসরাই, সিতাকুন্ডের মাঝেই ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ঝরনা। সারা বছর অনেকেই থাকে সুপ্ত। বর্ষায় জেগে ওঠে তারা। এর মধ্যে কমলদহ ট্রেইল অন্যতম। অসাধারণ এই ট্রেইলে যে বড় ঝরনাটার সঙ্গে আপনার প্রথমে দেখা হবে, সেটি কমলদহ ঝরনা নামে পরিচিত। এটির আপস্ট্রিমে আছে চার-পাঁচটা বড় এবং মাঝারি ঝরনা।

সবুজের সমারোহে কলকল ধ্বনির এই ঝরনাগুলো মনকে সত্যিই আন্দোলিত করে তোলে। তবে শান্তি পাওয়ার পথ সুগম নয় মোটেও। বৃষ্টি হলেই এই পথ এতটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, ট্রেকিংয়ে অভিজ্ঞ না হলে বেশি সতর্ক থাকা উচিত। ৩ ধাপ বিশিষ্ট ঝরনাটি নিচ থেকে শুধু এক ধাপ দেখা যায়। বাকি দুই ধাপ দেখতে হলে উপরে উঠতে হবে আপনাকে, যা খুবই পিচ্ছিল। কিন্তু বিপদ কাটিয়ে একবার উঠে গেলে চোখ ভরে যে সৌন্দর্য্য দেখতে পাবেন তার তুলনা হয় না!

কমলদহ ঝরনার ক্যাসকেড পার হয়ে সামনে গেলে দেখতে পাবেন বাম ও ডান দিকে দু’টি ঝিরি পথ রয়েছে। এই ঝিরিপথ ধরে সামনে এগোতে হবে। বামদিকে ঝিরি পথ ধরে সামনে এগোতে পারেন অথবা ডানদিকেও সামনে যেতে পারেন। ঝিরিপথ দিয়ে সোজা হাঁটলে পাওয়া যাবে ছাগলকান্দা ঝরনা। এ ঝরনাও এতটাই মনোমুগ্ধর, পথের সব ক্লান্তি মিলিয়ে যাবে স্রোতের কলতানে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে গেলে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট বাজারে নামতে হবে। এছাড়া ট্রেনে ফেনী বা চট্রগ্রাম নেমে আসতে পারবেন। চট্রগ্রামের শুভপুর বা অলংকার থেকে বাসে বড় দারোগারহাট যেতে পারবেন। সেখান থেকে লেগুনাতে ইট ভাটার পর্যন্ত। এর পরের রাস্তা দিয়ে পূর্ব দিকে ২০-২৫ মিনিটের হাটা পথ। বাকি পথ ছড়া ধরে গেলেই হবে।

কোথায় থাকবেন

এই ভ্রমণ একদিনের তাই থাকার দরকার পড়বে না। তারপরও রাতে থাকতে চাইলে মীরসরাই বা সীতাকুণ্ডে হোটেল পাবেন। তবে হোটেলগুলো তেমন ভালো মানের না। ভালো হোটেলে থাকতে চাইলে চট্টগ্রাম বা ফেনী চলে যেতে হবে।