করোনা বাড়াচ্ছে স্থুলতা

করোনাভাইরাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সারাবিশ্ব। এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে সবাই এক প্রকার বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। এক কথা, ঘরে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন সবাই। আর এই অলস সময় কাটাতে যেয়েই করোনাকালে বাড়ছে স্থুলতা।

নিজের দিকে খেয়াল রাখতে এই সময় অনেকেই অবহেলা করছেন। সেই সঙ্গে বদলে ফেলেছেন জীবনযাপনের পদ্ধতি। খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুমানোর নিয়ম পর্যন্ত পরিবর্তন হয়ে গেছে সবার। যা দিন দিন সবার ওজন বাড়িয়ে দিচ্ছে। কমাচ্ছে সতর্কতা। চলুন জেনে নেয়া যাক করোনা কীভাবে স্থুলতা বাড়ানোর জন্য দায়ী-

কম পানি পান করা

দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী যদি পানি পান না করেন তাহলে ওজন না কমে বৃদ্ধি পাবে। তাই দৈনিক ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। কারণ পানি দেহের বিপাকক্রিয়ার গতিই শুধু বৃদ্ধি করে না সেই সঙ্গে এটা পাকস্থলীতে খাবার ধারণের জায়গা কমিয়ে দেয়। যার ফলে খাবার খাওয়া কম হয় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু করোনার এই সময় ঘরে থাকা হচ্ছে বলে পানি খাওয়ার প্রতিও অবহেলা বেড়েছে সবার।

খাদ্যের পরিমাণ হিসেব না করে খাওয়া

অনিয়ন্ত্রীত খাদ্যাভাস ওজন না কমার অন্যতম একটি কারণ। করোনাকালে সবার মধ্যেই এই অনিয়ম বেড়ে গেছে। সারাদিন অলস সময় কাটাতে যেয়ে মানুষ নিয়ম করে খাওয়া ভুলে গেছেন। ঘরে তৈরি নানা রকম ভাজাপোড়া খাবারের প্রতি ঝুঁকছেন। যা ওজন বাড়ানোর জন্য দায়ী। এই সময় অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেছেন। আর এই খারাপ অভ্যাসটিই ওজন বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কোনো বেলার খাবার বাদ দেয়া

ঘরে বসে কোনো কাজ না থাকায় অনেকেই করোনাকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠছেন। আএ এইভাবে সকালের খাবার খাওয়া থেকে নিজেকে বঞ্চিত করছেন। এর ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যায় এবং স্বাস্থ্য হানি ঘটে। পরে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার আগ্রহ বেড়ে যায় যা ওজন বাড়িয়ে দেয়।

প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়া

অনেকেই সময় কাটাতে নানা রকম প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে থাকেন। প্রক্রিয়াজাত করা খাবার কোনোভাবেই স্বাস্থ্যকর নয়। এসব খাবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া এসব খাবারে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট এবং শর্করা। এই খাবারগুলোর পুষ্টিগুণ খুবই কম এবং খুব দ্রুত দেহের ওজন বৃদ্ধি করে।

মানসিক চাপ থাকলে

করোনাকালে অর্থ সংকটের কারণে সংসার কীভাবে চলবে, এই নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। তাছাড়া অনেকেই হারিয়েছেন চাকরিও। এই মানসিক চাপকে ওজন বাড়ার ক্ষেত্রে নীরব ঘাতকও বলা যায়। মানসিক চাপে থাকলে আমাদের দেহে করটিসল হরমোন বেশি নির্গত হয়। এটি ওজন বাড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এসময় আমাদেরকে চিনি যু্ক্ত খাবারগুলো বেশি আকর্ষণ করে। যা মেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

মিষ্টি বা চিনিযুক্ত খাবাবের আসক্তি

করোনাকালে অনেকেই ঘরে বসে মুখরোচক খাবার খেয়ে থাকেন। অনেকেই মিষ্টি খেতে খুবই ভালোবাসেন। মিষ্টি জাতীয় খাবার দেখলেই নিজেকে সামলাতে পারেন না। এটা খুবই খারাপ অভ্যাস। কেনোনা চিনিযুক্ত খাবার দেহের মেদ বাড়ায়। তাই ওজন কমাতে হলে অবশ্যই চিনিযুক্ত খাবার থেকে দুরে থাকতে হবে।

অনিয়মিত ঘুম

মেদ বা ভুড়ি হ্রাস বৃদ্ধিতে ঘুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি মানুষেরই সারাদিনে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। কম ঘুম বা অত্যাধিক ঘুম দুইটাই মেদ বৃদ্ধি জন্য দায়ী। আর এই নিয়মেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা। ঘরে থাকার কারণে অনেকেই অতিরিক্ত ঘুমাচ্ছে, আবার কেউ কম ঘুমাচ্ছেন। যা ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী। কারণ সঠিক সময়ে না ঘুমালে সেটা স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে।

চর্বি যুক্ত খাবার গ্রহন

করোনার মধ্যেই ছিল কোরবানির ইদ। তাই গরুর মাংস খাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে সবার মধ্যেই। এছাড়াও নানা রকম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে ঘরে বসেই বেড়েছে মেদ। কারণ উচ্চ তেলযুক্ত খাবার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চর্বি জমিয়ে রাখে।

অলস জীবনযাত্রা

অলস জীবনযাত্রার ফলে খাবার থেকে দেহ যে পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ করে তার তুলনায় ক্যালোরি খরচ হয় কম। ফলে দেহের ওজন বেড়ে যায়। করোনাকালে সবাই অলস জীবনযাপন করছেন। ভুলে গেছেন হাটা হাটি বা ব্যায়াম করা। তাই বাড়ছে স্থুলতা।

রাতে দেরি করে খাওয়া

ব্যস্ততা নেই বিধায় এই সময় সবার মধ্যেই রাত জাগার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে অনেকেই রাতে দেরি করে খাচ্ছেন। আর খাওয়ার পর পরই ঘুমাতে যাওয়ার কারণে খাবার হজম হবার সময় পায়না। যা দেহে ফ্যাট হিসেবে জমা হয়।