ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা কোথায় কত দূর? এ নিয়ে যা যা মাথায় রাখতেই হবে

বিশেষজ্ঞদের মত, অনেক দূরের পথ ভ্যাকসিন।কারণ, যে যা-ই বলুন-না কেন, আরএনএ ভাইরাস এত দ্রুত নিজেকে পালটায় ও একবার রোগ থেকে সেরে ওঠার পর অ্যান্টিবডি এত কম দিন কার্যকর থাকে যে, চট করে কিছু হওয়ার নয়।যদিও রোগ ঠেকানোর আর এক হাতিয়ার, রক্তের টি-সেল নিয়েও কাজ চলছে।সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডি কমলেও টি-সেল প্রতিরক্ষা দেবে বলে ভাবছেন বিজ্ঞানীরা।এগোচ্ছেনও সেই পথে।কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ অতশত বুঝছি না, ভাবছি, যা-ই হোক, কিছু একটা তো আসুক।এভাবে হাত ধুয়ে, মাস্ক পরে, ঘরে বসে আর কতদিন!

কতদিন এবং কতটা সুরক্ষা তা জানতে গেলে কাজগুলি কীভাবে চলছে, ভ্যাকসিন কীভাবে কাজ করে, সে সবও জানতে হবে।

কীভাবে বানানো হয় ভ্যাকসিন

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দী জানিয়েছেন, “জীবাণুর কিছু অংশ বা পুরো জীবাণুটাই ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ঢোকানো হয় শরীরে।খুব কম মাত্রায়।যাতে পুরোদস্তুর রোগ না হয় অথচ জীবাণুর দেখা পেয়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তাকে মারার জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শুরু করে।এই অ্যান্টিবডিই হচ্ছে রোগের বিরুদ্ধে বাঁচার রাস্তা।

একবার সঠিকভাবে তৈরি হলে ইমিউন সিস্টেম পুরো প্রক্রিয়াটি তার স্মৃতিতে ধরে রাখে, যাতে পরে ওই জীবাণু হানা দিলে শরীর আবার দ্রুত অনেক অ্যান্টিবডি তৈরি করে তাকে ধবংস করে দিতে পারে।সাধারণভাবে, জীবিত ভাইরাসকে তাপে বা অন্য কোনও ভাবে একটু দুর্বল করে নেওয়া হয়।অথবা মৃত ভাইরাসের কিছু অংশ বা পুরোটাই ভ্যাকসিনের মাধ্যমে শরীরে ঢোকানো হয়।”

সুবিধা-অসুবিধা

জীবিত ভাইরাসকে যতই দুর্বল করা হোক-না কেন, শরীরে ঢোকার পর অনেক সময় সে আবার সবল হলে নিজ মূর্তি ধরতে পারে।ফলে সুরক্ষা দেওয়া তো দূরস্থান, ভ্যাকসিনের জন্যই রোগে পড়তে পারেন মানুষ।অন্য দিকে, মৃত ভাইরাস দিয়ে তৈরি ভ্যাকসিন আবার কম ডোজে ভাল কাজ করে না, তা ছাড়া ঠিকঠাক সুরক্ষা পেতে গেলে এ ধরনের টিকা বার বার বুস্টার ডোজে দিয়ে যেতে হয়।সেটা এক বড় অসুবিধা।সেই জন্যই প্রথাগত পদ্ধতিতে প্রতিষেধক বানানোর পাশাপাশি অনেকে নতুন প্রযুক্তিতেও বানানোর চেষ্টা করছেন।এবার যত তাড়াতাড়ি অ্যানিম্যাল ট্রায়ালের পর্ব শেষ করে হিউম্যান ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পূর্ণ হবে, তত তাড়াতাড়ি বাজারে আসবে ভ্যাকসিন।

হিউম্যান ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল কী

“টিকা সবার উপযোগী হল কি না তা জানতে গেলে প্রচুর মানুষের উপর পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করে তার ভালমন্দ যাচাই করতে হয়।মন্দর চেয়ে ভালর মাত্রা বেশি হলে তবেই তা বাজারে আসার অনুমোদন পায়।একেই বলে হিউম্যান ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল”, জানালেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামী।সাধারণত তিনটি পর্যায়ে ট্রায়াল হয়।

• প্রথম পর্যায়ে অল্পসংখ্যক স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবককে টিকা দিয়ে দেখা হয়, সংক্রমণের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন তাঁদের কতটা সুরক্ষা দিতে পারছে এবং তাঁদের শরীরে কোনও বিরূপ প্রভাব পড়ছে কি না।

• দ্বিতীয় পর্যায়ে সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত কোনও দেশের কয়েকশো মানুষের উপর প্রয়োগ করে দেখা হয়, ভ্যাকসিনটি কতটা কার্যকর।

• তৃতীয় ধাপে কয়েক হাজার লোকের ক্ষেত্রেও একই ভাবে ভ্যাকসিনের কার্যকরিতা পরখ করা হয়।

কাজগুলি যে খুব সহজে হয়ে যায়, এমন কিন্তু নয়।নিয়মকানুন বুঝে নাম লেখানোর পরও অনেক স্বেচ্ছাসেবক মাঝ পথে ছেড়ে চলে যান।তখন নতুন করে স্বেচ্ছাসেবক জোগাড় করে কাজ শুরু করতে বেশ খানিকটা দেরি হয়ে যায়।

এর অবশ্য যথেষ্ট কারণও থাকে।সব সময় যে টিকাগুলো খুব নিরাপদ হয়, তেমন নয়।কার্যকরিতাও ঠিকঠাক থাকে না অনেক সময়।এই সব ত্রুটি খুঁজে বের করার আগে তাড়াহুড়ো করে টিকা বাজারে নিয়ে চলে এলে বিপদের আশঙ্কা থাকে।