ঘোল শুধু দুধের স্বাদ মেটায় না

গরমে রোদের প্রচন্ড তাপে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। এই পানির ঘাটতি পূরণের জন্য অনেক বেশি তরল পান করা প্রয়োজন। আর এই ঘাটতি পূরণের জন্য ঘোল হতে পারে আদর্শ। ঘোল বা মাঠা হচ্ছে ছানার পানি যা বিভিন্ন দেশে একটি উপাদেয় পানীয় হিসেবে পরিচিত। দুধ হতে ছানা অপসারণের পর অবশিষ্ঠাংশই ঘোল নামে পরিচিত। দইকে পাতলা করেই ঘোল বানানো হয়। তাই ঘোল অনেক সহজে হজম হয়। জলীয় উপাদান বেশি থাকায় ঘোল দইয়ের থেকে শরীরের বেশি হাইড্রেট করে। রান্নাতেও বিশেষ ভাবে ব্যবহার করা যায় ঘোল।

ঘোল বা ছানার পানি বিভিন্ন দেশে একটি উপাদেয় পানীয় হিসেবে পরিচিত। দুধ হতে ছানা অপসারণের পর অবশিষ্ঠাংশই ঘোল নামে পরিচিত। এতে দুধের কেজিনপ্রোটিন ছাড়া আর সকল উপাদানই বিদ্যমান। এটি মূলত পনির উৎপাদনের একটি প্রধান উপজাত।

সাধারণত দইকে পাতলা করেই ঘোল বানানো হয়। তাই ঘোল অনেক সহজে হজম হয়। জলীয় উপাদান বেশি থাকায় ঘোল দইয়ের থেকে শরীরের বেশি হাইড্রেট করে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ঘোলের প্রচুর উপকারিতার কথা রয়েছে। প্রতিদিন একগ্লাস করে ঘোল খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিয়ে আর মাথা ঘামাতে হবে না। যা দইয়ের মধ্যে পাওয়া যায় না। বদহজম রুখে দেয়, শরীরের ফ্যাট গলাতে, হাই ব্লাডপ্রেসারে, রোগা হতে, পেট ঠান্ডা করতে, ক্যালসিয়াম বাড়াতে মশলাদার খাবার হজম করতে সাহায্য করে ঘোল।

এছাড়া ঘোল খেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয় না, একই সঙ্গে এতে প্রচুর পুষ্টিকর উপাদানও থাকে। ঘোলে প্রচুর পরিমাণে পটশিয়াম ও ভিটামিন বি থাকে। একাধিক মিনারেলস ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্স সমৃদ্ধ ঘোল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ঘুমও ভালো হয়।

ঘোল বা মাঠা তৈরির নিয়ম

উপকরণ

দুধ: ৩ লিটার

চিনি: ৪ টেবিল চামচ

পেস্তাবাদাম বাটা: ৩ টেবিল চামচ

লবণ: পরিমাণমতো

বরফ কুচি: পরিমাণমতো

প্রণালি

প্রথমে ৩ লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে অর্ধেক করে নিতে হবে। তারপর ঠান্ডা করে ডাল ঘুটনি দিয়ে ভালো করে ঘুটে উপর থেকে ক্রিম উঠিয়ে নিতে হবে। সব ক্রিম বা ননি ওঠানো হয়ে গেলে যেই দুধটি থাকবে সেটাই হলো ঘোল। এবার ঘোলে চিনি, পেস্তাবাদাম বাটা ও লবণ দিয়ে ব্লেন্ডারে খুব ভালো করে ব্লেন্ড করে বরফ কুচি দিলেই তৈরি হয়ে গেল মাঠা। এছাড়াও রুচি বাড়ানোর জন্য আপনার পছন্দের মতো ভিন্ন স্বাদের ঘোল তৈরি করতে পারেন।

পুদিনা ও ঘোল: এক বাটি তাজা পুদিনা পাতা, এক কাপ দই এবং ৩০০ মিলিলিটার পানি মিশান। এর সাথে আদা গুঁড়া ও আধা টেবিল চামচ জিরা গুঁড়া মিশিয়ে মিশ্রণটি ব্লেন্ডারে দিন। তারপর পানীয়টি ছেঁকে নিন এবং ফ্রিজে ২০ মিনিট রেখে পান করুন।

লেবু ও ঘোল: টেবিল চামচ দই ১ গ্লাস পানিতে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। স্বাদের জন্য সামান্য লবণ মিশিয়ে নিন। একটি লেবুর অর্ধেক অংশের রস চিপে দিন। ক্লান্তিকর দিনের শেষে বাসায় ফিরেই এই পানীয়টি পান করুন।

কাঁচামরিচ ও ঘোল: দই, পানি, কাঁচামরিচ ও কারিপাতা একটি ব্লেন্ডারে নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। কাঁচামরিচ ও কারিপাতা হামানদিস্তায় পিষে নিয়েও ঘোলের সাথে মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি একটি দক্ষিণ ভারতীয় উপাদেয় পানীয়। যারা মসলাদার পানীয় খেতে পছন্দ করেন তাদের জন্য অতুলনীয়।

জিরা ও ঘোল: সুস্বাদু ও কম মসলা যুক্ত স্বাদের জন্য আধা কাপ দই এর মধ্যে আধা টেবিল চামচ জিরা গুঁড়ো, এক চিমটি লবণ ও এক কাপ পানি ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। আপনি এতে কয়েকটি পুদিনা পাতা বা ধনে পাতাও দিতে পারেন। সব শেষে এক টুকরো বরফ দিয়ে পান করুন।

খনিজ লবণ ও ঘোল: খনিজ লবণ ও জিরা গুঁড়ো ঘোলের সাথে মিশান। পানীয়টি যাতে ঘন না হয়ে কিছুটা পাতলা হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। এর সাথে পুদিনা পাতা মিশিয়ে নিতে পারেন।

রান্নার কাজেও ঘোলের ব্যবহার

ডো বানাতে সাহায্য করে: বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারের জন্য ডো তৈরি করতে হয় আমাদের। সেক্ষেত্রে আটা বা ময়দার মিশ্রণে একটু ঘোল ব্যবহার করলে ডো অনেক নরম হয়ে যাবে। যার ফলে আপনার খাবার আরও সুস্বাদু হয়ে উঠবে।

স্মুদি: স্লিম, সুস্থ এবং সুন্দর থাকতে হলে চাই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সহ আরও অনেক কিছু৷ আর সেজন্য ফল আর সবজি মিশ্রিত পুষ্টি পানীয় ‘স্মুদি’-র তুলনা নেই৷ সকালে স্মুদি দিয়ে দিনের শুরু হলে সারাদিন সুস্থ থাকা যায়৷ তার সঙ্গে এতে খিদে কম তো পায়ই, ওজনও কমানো যায় সহজে৷ এই স্মুদি তৈরিতে ঘোল দিলে আরও ভালো হবে।

বেকিং করতে: যে কোন কিছু বেকিং করতে হলে। ওই ব্যাটারের সঙ্গে একটু ঘোল মেশালে আরও সুস্বাদু হয়ে যাবে।

খাদ্যশস্য ভিজিয়ে রাখতে: চাল বা যে কোনও খাদ্যশস্য ভিজিয়ে রাখতে পানির সঙ্গে একটু ঘোল মিশিয়ে দিলে ভালো হয়।

স্যুপ তৈরিতে সাহায্য করে: যে কোনও স্যুপ বা স্টিউ তৈরি করতেও ঘোল ব্যবহার করা যায়।