বেড়েই চলেছে পিঁপড়ের উৎপাত, রেহাই মিলবে কীভাবে

একটা ছয় পায়ের ছোট্ট পোকা। কিন্তু তাদের উৎপাতেই নাজেহাল আপনি। বর্ষার আবহ এখনও কমেনি, এ দিকে ভ্যাপসা গরম। তাই পিঁপড়ের হাত থেকে নিস্তার মিলছে না। আলমারি হোক কিংবা রান্নাঘরের কোণে, বারান্দায় এমনকি বইয়ের তাকেও সারা ক্ষণ এদের দেখা মিলছে। তাহলে কি অন্দরসজ্জায় বদল ঘটানোর প্রয়োজন রয়েছে ?

কিছু কিছু পিঁপড়ে (ফায়ার ও হারভেস্টার) রয়েছে, যা মানুষকে কামড়ায়। কাঠ পিঁপড়ে ক্ষতি করে বাড়ি-ঘরেরও। এদিকে, খাবারে সংক্রমণের অন্যতম কারিগর পিঁপড়ে। দেওয়াল, মেঝের ফাটল, কিংবা শ্বেত পাথরের মার্বল বসানো শৌচাগার, এরা সর্বত্রই ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের ঠেকাতে কী উপায় নেওয়া যেতে পারে? এই প্রসঙ্গে অন্দরসজ্জাবিদ উর্বশী বসু বলেন, নতুন ঘর তৈরির সময় দেওয়ালে কীটনাশক স্প্রে ব্যবহার করা হয়, এতে উপদ্রব কমে। এ ছাড়াও আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে উই ধরা রুখতে যে ধরনের স্প্রে ব্যবহার করা হয় তাতে কিংবা বাড়িতে পেস্ট কন্ট্রোল করা হলে এমনিতেই পিঁপড়ের ঝামেলা খানিকটা হলেও কমে।

ঘরোয়া কিছু উপায় রয়েছে, যার ফলে এর থেকে নিষ্কৃতি মিলতে পারে। ক্যাবিনেটের ভিতর বা বারান্দায় কিংবা রান্নাঘরে তেজপাতার গুঁড়ো দিয়ে রাখলে পিঁপড়ের উপদ্রব কমতে পারে, জানান উর্বশী। তাঁর কথায়, ঘর কিংবা বারান্দা রোজ কড়া গন্ধের ফিনাইল দিয়ে মুছতে হবে, তা হলেও পিঁপড়ে কম হবে।

সাদা ভিনিগার: সাদা ভিনিগারের গন্ধ মোটেও সহ্য করতে পারে না পিঁপড়ে। একই পরিমাণে জল এবং সাদা ভিনিগার মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে সেটি দিয়ে রাখতে হবে পিঁপড়ে ঢোকার প্রবেশপথগুলিতে।

দারচিনি-লবঙ্গ-তেজপাতা : প্রাকৃতিক বিকর্ষকের কাজ করে এগুলি। পিঁপড়ে মোটেও এগুলির গন্ধ পছন্দ করে না। গরম চাটুতে এগুলি দিয়ে তার পর গুঁড়ো করে অল্প পরিমাণে ছড়িয়ে রাখলে পিঁপড়ে পালাতে বাধ্য।

পুদিনা পাতা: একটা কড়া গন্ধ আছে এই পাতার। সামান্য থেঁতো করে এই পাতা রান্নাঘর ও মেঝের কোণের অংশগুলিতে দিয়ে রাখা যেতে পারে। পুদিনা তেল জলের সঙ্গে মিশিয়ে ঘরে স্প্রে করলেও পিঁপড়ের হাত থেকে রেহাই মিলবে। পেপারমিন্টের গন্ধও পিঁপড়ের অপছন্দ, জানান অন্দরসজ্জাবিদ।