কবি শেখ ফজলল করিমের বাড়ির প্রদর্শনী সাময়িক বন্ধ

কবি শেখ ফজলল করিমের ৮৪তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল ২৮ সেপ্টেম্বর। দিনটি ঘিরে সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদের সদস্যরা বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেন। তবে কবির কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় ভক্তরা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। দ্রুত দর্শনার্থী ও কবিপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান তারা।

জানা যায়, লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের পাশেই কবির স্মৃতিফলক রয়েছে। ১৯৯৩ সালে কবির বাড়ির দিকনির্দেশক হিসেবে গড়ে তোলা হয়। হেঁটে কিছু দূর যেতেই চোখে পড়ে কবি শেখ ফজলল করিমের বাড়ি। বাড়ির পাশেই একটি পুকুর ও মসজিদ। পুকুরের পাশেই তার মাজার। কিন্তু কবির কক্ষটি তালাবদ্ধ করে রেখেছে কবির পরিবার। সাইনবোর্ডে লেখা আছে, ‘কিছুদিনের জন্য অনিবার্য কারণবশত প্রদর্শনী বন্ধ থাকবে।’ ফলে কবিভক্তরা আক্ষেপ করেন।

কক্ষের ভেতর গিয়ে দেখা যায় অযত্ন আর অবহেলার ছাপ। সৌখিন কারুকাজ করা কাঠগুলো উঁইপোকা খেয়ে ফেলেছে। চোখে পড়ে কাঠের দেয়ালজুড়ে কবির বড় দুটো ছবি। কবির ব্যবহৃত জীর্ণ চেয়ার, খাট ও একটি গ্রামোফোন। এক কোণে কাঁচের একটি শোকেস। কাঁচগুলো ফেটে চৌচির। আছে কবির ব্যবহৃত টুপি, দোয়াত-কলম, ছোট্ট কোরআন শরীফ, ম্যাগনিফাইং গ্লাস ও কিছু বোতাম।

সেখান থেকে কাকিনা বাজারে এলে পাবেন ২০০৫ সালে কবির স্মৃতিরক্ষার্থে নির্মিত শেখ ফজলল করিম পাঠাগার। মৃত্যুবার্ষিকীর সপ্তাহখানেক আগে স্থানীয়রা তা পরিষ্কার করেছেন। তবে পাঠাগারে নেই নিরাপত্তা প্রহরী ও পাঠকমহলের পদচারণা। বই-পুস্তকগুলোও হারিয়ে যেতে বসেছে। ফলে বইপ্রেমীরা এখন সেখানে যান না। পাঠাগারের পাশের দোকানপাট সৌন্দর্য নষ্ট করেছে। রাতের চিত্র ভিন্ন, পেছনে ডাকঘরে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।

কবিভক্ত জেসমিন আরা জুতি বলেন, ‘কবির রুমটি তালাবদ্ধ থাকার কারণে দূর-দূরন্ত থেকে আসা কবিপ্রেমীরা কিছুই দেখতে পারেন না। তাই এখন আগের মত আর দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে না।’

বর্তমান রক্ষক বলেন, ‘কবি শেখ ফজলল করিমের মৃত্যুবার্ষিকীতে রাতে নিজবাড়িতে ছোট আকারে একটি দোয়া-মাহফিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কবির কক্ষটি জিনিসপত্র চুরি হওয়ার ভয়ে তালাবদ্ধ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা এসেই বিরক্ত করে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হাসান বলেন, ‘কবির মৃত্যুবার্ষিকী পালনের জন্য সরকারিভাবে কোনো নির্দেশনা নেই। তবে সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদের সাথে উপজেলা প্রশাসন যৌথ আয়োজন করেছে। কবির কক্ষটি উন্মুক্ত করার বিষয়ে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’