চার পদ্ধতিতে গড়ে তুলুন মনের মতো ‘পড়ার ঘর’

পড়ার ঘর যত ছোট হোক, সেই ঘর বা রুমটিকে মানুষ চায় তার মনের মতো করে সাজাতে। পড়ার রুম একটি বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ছোট থেকে বড় সবার বিচরণ থাকে এই পড়ার রুমে। তবে একেক বয়সের মানুষের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে পড়ার রুমগুলো একেক রকম হয়।

ঘরের অন্যান্য রুমের তুলনায় পড়ার ঘর হয় আলাদা। এ ঘরের সাজসজ্জা হওয়া চাই সবসময় শান্ত ও শীতল। সবসময় যাতে পড়ার একটি আবহ তৈরি হয় এ ব্যবস্থা অবশ্যই থাকতে হবে।

অনেকের ঘরেই আলাদা করে পড়ার ঘরের ব্যবস্থা নেই। সেক্ষেত্রে ঘরের একপাশে ছোট্ট একটি কর্ণার বেছে নেয়া যায়। সেটাকেই সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিয়ে পড়াশোনার কাজ ভালোমতোই চালানো যায়।

পড়াশোনার কাজটি যদি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে সেই ঘরটার সাজগোজও হতে হবে বেশ ভালো। ঘরটা যদি ছোট হয় তাহলে এই ঘরের মেঝেতে কিছু ছোট ছোট ব্যাগ, কুশন বা বসার ম্যাট রেখে দিতে পারেন।

নিচে বসেই চালিয়ে নিতে পারবেন পড়াশোনার কাজ। একটা ছোট এবং নিচু কফি টেবিল বসিয়ে দিতে পারেন ঘরের মাঝখানে। এই একটি টেবিলেই চাইলে কম্পিউটার বা ল্যাপটপও রাখতে পারবেন। মাল্টি কালারের কোনো বুক হোল্ডার রাখতে পারেন পড়ার ঘরে। খবরের কাগজ ও ম্যাগাজিন রাখার জন্য বেশ কাজে আসবে।

যেমন হবে বুকসেলফ

বুকশেলফ নির্বাচনের সময় হালকা ডিজাইন বেছে নিন এবং বুকশেলফে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখুন বইগুলো। তবে বই সাজিয়ে রাখার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে খুব সহজে বই নিয়ে পড়া যায়।

আর যদি খুব বেশি বই নিয়ে কাজ হয় তাহলে একটি বড় বুকশেলফ কিনে নিতে ভুলবেন না। সেটাতে থাকতে পারে কাঁচের দরজা। ধুলোবালির হাত থেকে রক্ষা পাবেন এতে করে। বুক শেলফের পাশেই বসিয়ে দিন কোনো কাঠের টেবিল চেয়ার।

তবে খেয়াল রাখুন টেবিলটিতে যেন অনেকগুলো ড্রয়ার থাকে। তাহলে সেটিকে বহুমূখী কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যান্য জিনিস যেমন প্রিন্টার বা রাউটার এমনভাবে রাখুন যেন তারগুলো বেশ গুছানো থাকে। ঘরটি বেশ গোছানো মনে হবে সহজে।

চাই প্রাকৃতিক আলো

পড়ার টেবিল রাখতে পারেন জানালার পাশে। জানালার পর্দা পাশে টেনে রাখলে ঘরে আর সরাসরি আপনার টেবিলে আলো প্রবেশ করবে। এছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশ বই পড়ার পাশাপাশি উপভোগও করা যাবে।

টেবিলে চাইলে অর্কিড বা বনসাই গাছ রাখতে পারেন। ঘরে নরমাল লাইট রাখুন। অন্যদিকে টেবিলে ল্যাম্প জ্বালিয়েও পড়তে পারেন। আর চেয়ার নির্বাচনের সময় অবশ্যই নির্বাচন করুন আরাম চেয়ার।

সাজান নিজের মতো

বই পড়তে পড়তে একটু হেলান দিয়ে বসার জন্য ঘরের এক কোনায় রাখতে পারেন ডিভান বা সিঙ্গেল লম্বা সোফা, যাতে কুশন রেখে হেলান দিয়ে আপনি পড়তে পারবেন আপনার পছন্দের বইটি।

এছাড়া যে কোনো একটি কর্ণারে ল্যান্ডস্কিপিং বা ইনডোর প্ল্যান্টিং করতে পারেন। এতে ঘরে সবুজের ছোয়াঁ বাড়বে। যা আপনাকে রাখবে মনমুগ্ধকর এক পরিবেশে।

রঙিন পড়ার ঘর

অন্যদিকে টিন-এজারদের পড়ার ঘরের রং হয়ে থাকে কিছুটা উজ্জ্বল। গোলাপি, হলদে, টিয়া, নীল, আকাশি হয়ে থাকে এদের পড়ার রুমের দেয়ালের রং। এছাড়া ফল্স সিলিং লাগিয়ে হ্যাংগিং লাইটস দিয়েও রুমটিকে সাজানো যায় অন্য সাজে।

বুক সেলফ বা বইয়ের তাকের আকৃতি হয়ে থাকে ট্রি বা আই বা স্কয়ার আকৃতির। মূলত পড়ার ঘরটিকে আনন্দের স্থান করে তুলতে দেয়ালের রং, বইয়ের তাকের আকৃতিতে বৈচিত্র আনা হয়। সঙ্গে পর্দার রং ও নির্বাচন করা হয় উজ্জ্বল রঙের।

এছাড়া রুমের নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয় ছোট কার্পেট। এই ছোট কার্পেটগুলো খুব সহজেই পরিষ্কার করা যায়, তাই এগুলো ব্যবহার সহজ ও আরামদায়ক। পড়ার ঘর বা পড়ার রুম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

কিছুটা ব্যক্তিগত আর গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটানো হয় এই পড়ার রুমে। তাই পড়ার রুমটিকে সাজানো উচিত অল্প আসবাবপত্র দিয়ে আর আপন মাধুরি মিশিয়ে।