নিকলি ও কিশোরগঞ্জে একদিন-একরাত

ওপরে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। নিচে কেবল পানি আর পানি। সেই পানিতে ভাসতে ভাসতে, দুলতে দুলতে আমরা চলেছি যেন অনন্তের অভিমুখে!

অনেক গবেষণা করে সিদ্ধান্ত হলো, নিকলি যাব। সেখানে সারাদিন কাটিয়ে রাতে কিশোরগঞ্জ থাকব। পরদিন কিশোরগঞ্জের আশপাশে বেড়িয়ে ঢাকায় ফিরব। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুরু হলো ভ্রমণের আয়োজন।

কিশোরগঞ্জে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য ধরলাম সুবাসকে। সুবাস মাস কয়েক প্রমোশন পেয়ে ঢাকায় এসেছে। এর আগে সে ছিল ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক।

সুবাস পরদিন জানাল, কিশোরগঞ্জে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে তিনটি এসি রুম পাওয়া যাবে। আমি তাকে অনুরোধ করলাম ওই রুম তিনটি আমাদের নামে ফাইনাল বুকিং দিয়ে দিতে।

আমার অতিউৎসাহী সহকর্মী নীনা, বৃষ্টি, নিম্মি, আফরীন, আমি আর ববি মিলে আমরা মোট ছয় জনের টিম। নিকলি ভ্রমণের জন্য তৈরি হলাম। একটি মাইক্রোবাসও ভাড়া করা হলো।

নিকলিতে কোন পথে যাব, কোথায় কোথায় ঘুরব, সেটা জানার জন্য কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের কৃতিসন্তান, ইতিহাসবিদ ও গবেষক বন্ধু তরুণ সরকারকে ফোন দিলাম। তরুণ কিছু পরামর্শ দিল। তবে সে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আরেক বন্ধু, জগন্নাথ হলের রুমমেট, রাজনৈতিক সহকর্মী ভবেশদাকে ফোন দিতে বলল।

ভবেশদার বাড়ি নিকলি। যদিও সে বর্তমানে নবাবগঞ্জে একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে। ভবেশদাকে ফোন দিলাম। অত্যন্ত প্রাণখোলা ও সাদা মনের মানুষ ভবেশদা উৎসাহের সঙ্গে নিকলি সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিল। আরও জানালেন যে, সে ওই সময় কিশোরগঞ্জ থাকবে। সেও চেষ্টা করবে নিকলিতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে। আর সেটা না পারলেও অসুবিধা নেই। ফারুক নামে তার এক বন্ধু আছে নিকলি আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা। সে আমাদের নৌকা ভাড়া করে দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

সব ব্যবস্থা পাকা করে আমরা শুক্রবার সকাল ৭টায় রওনা হলাম নিকলি অভিমুখে।

সেদিন আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিও পড়ছিল। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভ্রমণসঙ্গীদের তুলতে গিয়ে প্রায় আটটা বেজে গেল। এরপর তিনশ ফিট হয়ে নরসিংদী, শিবপুর হয়ে আমরা চলতে শুরু করলাম। নরসিংদীর একটি হোটেলে চা-নাস্তা করলাম। চা-নাস্তার পর আবার যাত্রা শুরু হল। জানালার কাচ দিয়ে বাইরে সবুজ ধানক্ষেত, কাশফুল, আর মেঘের আনাগোনা দেখতে দেখতে গল্প-আডায় মশগুল হয়ে আমরা পথ চলছিলাম।

এর কিছুক্ষণ পর শুরু হলো প্রচণ্ড বৃষ্টি। আমাদের গাড়িচালক অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এদিকে নিকলি থেকে ফারুক বার বার ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করছিল আমরা কতদূর এলাম। ভবেশদাও ফোন করে জানাল সে নিকলিতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন।