যে নিয়মে ডিম খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস সারানোর ওষুধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভোগা রোগীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। আর ডায়াবেটিসে ভোগার কারণে হতে পারে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো গুরুতর রোগ। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, শতকরা ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে জীবনাচরণে পরিবর্তন এনেই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়।

ডায়াবেটিস ধরা পড়লে পছন্দের প্রায় সব খাবারই বাদ পড়ে খাদ্য তালিকা থেকে। তবে সম্প্রতি একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, রক্তে সুগারের মাত্রা সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে ডিম।

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটা খুব ভালো। প্রতিটি ডিমে দশমিক ৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য দারুণ কার্যকরী। ডিমে থাকা পটাশিয়াম রক্তে সোডিয়াম, বায়োটিনের মাত্রা ঠিক রাখে। ফলে শরীরে ভালো পরিমাণে ইনসুলিন উৎপন্ন হয়। এতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়। সেই সঙ্গে হৃৎপিণ্ডও ভালো থাকে। এছাড়া এতে কম ক্যালরি থাকে এবং বহুমুখী পুষ্টি উপাদানের দিক থেকেও এটি বেশ সমৃদ্ধ।

ইস্টার্ন ফিনল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দীর্ঘ গবেষণার পর জানিয়েছেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা সিদ্ধ ডিম খেতেই পারেন। তবে সিদ্ধ করার আগে কয়েকটি নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

যেদিন সকালে ডিম সিদ্ধ খাবেন তার আগের দিন রাত থেকে ডিম ভিনেগারে ডুবিয়ে রাখুন। সারারাত ভিনেগারে ভেজার পর, সকালে সেই ডিম সিদ্ধ করে নিন আর নির্দ্বিধায় খান ডিম সিদ্ধ।

শুধু ডিম সিদ্ধই নয়, রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে আরও একটি উপাদান, দারুচিনি। শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এই দারুচিনি। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা প্রতিদিনের খাবার, কিংবা চা বা গরম পানিতে সামান্য (এক চিমটে) দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে খেতেই পারেন। সিদ্ধ ডিম যদি সামান্য দারুচিনির গুঁড়া দিয়ে খেতে পারেন, সে ক্ষেত্রে ফল আরও ভালো মিলবে।

এ কথা প্রায় সকলেই জানেন যে, ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং নিউট্রিয়েন্টস (পুষ্টি দ্রব্য)। শুধু তাই নয়, ডিমে থাকে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই সব পুষ্টিগুণ মিলে আমাদের শরীরে তৈরি হয় ‘গুড কোলেস্টেরল’। তাই শরীরে কোলেস্টেরল আর ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক পদ্ধতি মেনে ডিম খান। উপকার পাবেন। সব দিক বিবেচনা করে গবেষকরা বলছেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় ডিম খেতে পারেন। সেক্ষেত্রে দিনে একটি করে ডিম খাওয়াই ভালো।