রান্নাঘর যদি খোলামেলা হয়

খোলামেলা রান্নাঘর মানে যাকে আমরা বলি ওপেন কিচেন। প্রথাগত রান্নাঘরের বাইরের একটি ধারণা এটি। মূলত পাশ্চাত্যে ভীষণ জনপ্রিয় ওপেন কিচেনের ধারণা। তবে পাশ্চাত্যের সীমানা পেরিয়ে ওপেন কিচেনের ধারণা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আমাদের দেশে। সময়ের সঙ্গে থাকতে গিয়ে আমাদের ফ্ল্যাটগুলোতেও এখন এ ব্যবস্থা রাখছেন কেউ কেউ। এটা করতে গিয়ে আমাদের খাদ্যাভ্যাসেও আসছে পরিবর্তন।

বাড়িতে রান্নাঘর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের অঞ্চলে বাড়ি তৈরির প্রাচীন নিয়মকানুনের মধ্যে বাড়ির কোন দিকে এবং কোন মুখে রান্নাঘর তৈরি হবে, সে নিয়ে নিদান দেওয়া ছিল। এখনো বিষয়টি মেনে চলেন কেউ কেউ।

আমাদের সংস্কৃতিতে রান্নাঘর বিষয়টি শুরু থেকেই মূল বাড়ির সঙ্গে একটি আলাদা ঘর হিসেবে তৈরি হয়েছে। সেটি থাকার বা অন্যান্য ঘর থেকে কিছুটা দূরেই থাকে। তাই রান্নাবান্নার ময়লা, বিশেষ করে তেল-ঝোল কিংবা ধোঁয়া অন্য ঘরগুলোকে সহজে ময়লা করতে পারে না। কিন্তু শহরে যখন সে সুবিধা নেই, তখন রান্নাঘর নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়েছে স্থাপত্যবিদদের।

পাশ্চাত্যের ওপেন কিচেনের ধারণা নিয়ে এখন আমাদের দেশেও অনেকে বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাটে বসার ঘর বা খাবার ঘরের সঙ্গে লাগোয়া খোলামেলা রান্নাঘরের ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু আমাদের খাবারের রান্নাশৈলী পাশ্চাত্যের থেকে অনেকটাই ভিন্ন। পাশ্চাত্যের চেয়ে আমাদের রান্নায় তেল এবং মসলার ব্যবহার বেশি। ফলে খুব দ্রুতই রান্নাঘর হয়ে পড়ে তেলচিটচিটে। বিশেষ করে রান্নাঘরের জানালার কাচ, গ্রিল ও সিলিং। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রান্নাঘরের দেয়ালও নষ্ট হয়ে যায়।

হেতু আমাদের রান্নার প্রণালি ভিন্ন, সে কারণে রান্নাঘর তো বটেই, তার সঙ্গে লাগোয়া বা কাছাকাছি থাকা অন্য ঘরগুলোও দ্রুত ময়লা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই খোলামেলা পরিসরের রান্নাঘরের সাজসজ্জার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।

ওপেন কিচেনের জন্য কী করবেন

সাধারণত ওপেন কিচেনের অবস্থান খাবার ঘরের সঙ্গে হলেই ভালো হয়। এ জন্য ন্যূনতম ১০০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন।

খোলামেলা পরিসরের রান্নাঘরে খুব বেশি আসবাবের আয়োজন রাখার দরকার নেই।

আসবাবে গাঢ় রঙের ব্যবহার করুন তাতে ময়লা কম হবে।

ওপেন কিচেনে অবশ্যই কিচেন হুড বা চিমনির ব্যবস্থা রাখতে হবে। অন্যথায় পুরো ঘর ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যাবে। তা ছাড়া সঙ্গে তেলচিটচিটেও হয়ে যাবে খুব দ্রুত।

এই ধরনের রান্নাঘরে খুব বেশি ঝোল ও মসলাদার খাবার রান্না না করাই ভালো। অতিরিক্ত তেল-মসলার ঝাঁজ সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। শুধু হালকা রান্নার জন্য ওপেন কিচেন ব্যবহার করতে হবে।

রান্নাঘরের আসবাব থেকে শুরু করে খাবার বা মসলা রাখার পাত্রগুলো যাতে দৃষ্টিনন্দন হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

প্রতিবার রান্না শেষেই পরিষ্কার করে ফেলতে হবে রান্নাঘরের ব্যবহৃত জিনিসপত্র।

এ ধরনের রান্নাঘরে খুব বেশি খোলা তাকের ব্যবস্থা না রাখাই ভালো। পরিবর্তে হালকা ওয়াল ক্যাবিনেটের ব্যবহার করা যেতে পারে।

রান্নাঘরে কাপড়ের পর্দা ব্যবহার না করে এর পরিবর্তে বাঁশের চিক, না হলে ভার্টিক্যাল ব্লাইন্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া সাধারণ আলোকসজ্জার বাইরে বিশেষ বিশেষ জায়গাকে ফোকাস করে ব্যবহার করা যেতে পারে স্পট লাইট।

রান্নাবান্নাগৃহসজ্জাগৃহস্থালি টিপস