শিশুর ছবিতেই ধরা পড়বে ক্যান্সারের লক্ষণ

সব বাবা-মাই কমবেশি শিশুর ছবি তোলেন। শিশুর বিশেষ মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করে রাখেন। ছবিগুলো ভবিষ্যতে যাতে আনন্দের মুহূর্তগুলো ফিরিয়ে আনতে পারে। প্রথম দিন থেকে একটু একটু করে শিশুর বড় হওয়া বাবা মাকে খুশি করে।

এই সুন্দর সুন্দর ছবি যেমন মা-বাবার খুশির কারণ হতে পারে। তেমনি ছবিতে অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়লে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজও ফেলে দেয় মুহূর্তে। জানেন কি? শিশুর ছবিই জানান দেবে ক্যান্সারের। এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞদের।

ডা. হাওয়ার্ড আর ক্রাউস ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা মনিকায় অবস্থিত প্রভিডেন্স সেন্ট জন’স হেলথ সেন্টারের অন্তর্গত জন ওয়েন ক্যানসার ইনস্টিটিউটের অপথালমোলজি ও নিউরোসার্জারির ক্লিনিক্যাল প্রফেসর। তিনি বলেন, শিশুর ছবিতে অনেক সময় ক্যান্সারের লক্ষণ ধরা পড়ে। লক্ষণটি হলো চোখের মণি (পিউপিল) সাদা হয়ে যাওয়া। পিউপিল সাদা হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে। মারাত্মক একটি কারণ হলো রেটিনোব্লাস্টোমা। রেটিনোব্লাসটোমা হলো একটি বিরল চোখ ক্যান্সার যা সাধারণত ছয় বছরের কম বয়সি শিশুদের হয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে অন্যান্য সমস্যার কারণে পিউপিল সাদা হয়, বিরল ক্ষেত্রে এর জন্য ক্যান্সারই দায়ী। ক্যান্সার ছাড়াও যেসব মারাত্মক সমস্যার কারণে চোখের মণি সাদা হতে পারে, সেগুলো হলো- কোটস আই ডিজিজ, পারসিসটেন্ট হাইপারপ্লাস্টিক প্রাইমারি ভিট্রিয়াস (পিএইচপিভি), টক্সোকেরিয়াসিস ও ছানি।

ডা. ক্রাউস আরো বলেন, সাদা পিউপিলই রেটিনোব্লাস্টোমার একমাত্র লক্ষণ নয়। এই সমস্যার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হলো- এক চোখে কম দেখা বা দৃষ্টিশক্তি হারানো, এক চোখে ব্যথা বা লাল হওয়া, এক চোখের অস্বাভাবিক অবস্থান ও চোখের বিকাশে বিলম্ব। শিশুর ছবিতে পিউপিলে সাদা আভা দেখতে পেলে অথবা সে চোখে অস্বস্তি অনুভব করছে মনে হলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

এই ক্যান্সারের প্রথম লক্ষণ হলো চোখের কালো অংশটি সাদা হওয়া। এটাকে মেডিক্যালের ভাষায় লিউকোকোরিয়া বলে। লিউকোকোরিয়ার ক্ষেত্রে ফ্লাশ লাইটে ছবি তুললে পিউপিলকে সাদা দেখায়। ক্রাউস বলেন, এক চোখে লিউকোকোরিয়া দেখা গেলেও সাধারণত অন্য চোখটি স্বাভাবিক থাকে। যুক্তরাজ্যের চাইল্ডহুড আই ক্যান্সার ট্রাস্টের মতে, অন্ধকারে অথবা কৃত্রিম আলোতে আলোকিত রুমেও চোখের পিউপিলে লিউকোকোরিয়া দেখা যেতে পারে।

শিশুর চোখের সমস্যাকে অবহেলা করলে পরে সারিয়ে তোলা অসম্ভব হতে পারে, এমনকি অন্ধও হয়ে যেতে পারে। রেটিনোব্লাস্টোমার ক্ষেত্রে অন্ধত্ব ও ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে রোগটাকে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুচিকিৎসায় এই রোগ নিরাময় হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ শনাক্তের জন্য নিয়মিত শিশুর চোখ লক্ষ্য করুন। শিশুর চোখে অস্বাভাবিক কিছু দেখলে চিকিৎসক দেখাতে গড়িমসি করবেন না। অনেকসময় শিশুর চোখের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা মা-বাবার পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই নিয়মিত চিকিৎসককে দেখানোর কথা বিবেচনা করুন।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*