সাদা-পার্পলে ষষ্ঠী

শরৎ পেরিয়ে উৎসব এবার হেমন্তে। ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী। মহালয়ার ৩৫ দিন পর এবার শুরু হচ্ছে পূজা। অতিমারির এই সময়ে উদ্‌যাপন অবশ্যই হবে; তবে সতর্কতার সঙ্গে। এরই মধ্যে সাজগোজও করতেই হবে। বেড়ানো হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। এবার ষষ্ঠী হোক এভাবে।

সাজ হবে দুই বেলাতেই। এক বেলায় সালোয়ার-কামিজ হলে অন্য বেলায় শাড়িই ভাল। এ জন্য সকালে সালোয়ার-কামিজকে প্রাধান্য দিচ্ছি আমি। শাড়ি থাকুক বিকেল-সন্ধ্যা আর রাতের জন্য।

এখন আবহাওয়া খুব আরামপ্রদ নয়। সকালে কিছুটা উপভোগ্য থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পরিস্থিতি। বাড়তে থাকে গরম। তাই সুতি কাপড়ই স্বস্তি দেবে। তাই সকালের জন্য আমি সুতি কাপড়কে বেছে নিয়েছি। আর রাতে রেখেছি রেশম।

সুতি কাপড়ের কামিজের আর্মহোল বরাবর আদিবাসী বুননের কাপড় বসানো হয়েছে। একইভাবে হাতেও সেটা করা হয়েছে। পুরোহাতা অফহোয়াইট শর্ট কামিজের জমিনে হাতের কাজ করা হয়েছে। গোল গলায় হালকা ভি কাটে মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কামিজের ইয়কে কাপড়ের বোতাম সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। কামিজের ভ্যালু এডিশনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে কোমরতাঁতে বোনা কাপড়।

সাধারণ সালোয়ারের বদলে পাতিয়ালা সালোয়ারে পূর্ণতা আনার প্রয়াস পেয়েছি। এর সঙ্গে দোপাট্টা হিসেবে যোগ হয়েছে চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী হাদি বা খাদি। সমতল ও পাহাড়ের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে এই কম্বিনেশনে।

বিকেল-সন্ধ্যা বা রাতের পোশাক হিসেবে আমার কাছে শাড়িকেই উপযুক্ত মনে হয়েছে। সালোয়ার–কামিজের মতো শাড়িতেও অফহোয়াইটের সঙ্গে পার্পলের সমন্বয় রয়েছে। সিল্কের শাড়ির জমিন অলংকৃত হয়েছে হাতের কাজ আর আদিবাসী প্যাচওয়ার্কে।

আমার কাছে সকালটা একটু আটপৌরে মনে হয়। সে জন্যই সালোয়ার-কামিজ-দোপাট্টা পরার পরামর্শ দিচ্ছি। অন্যদিকে বিকেল, সন্ধ্যা বা রাত তুলনায় আনুষ্ঠানিক। এ জন্য যেকোনো অনুষ্ঠানে শাড়িতে ফুটে উঠবে আভিজাত্য। রাতের পোশাকে রং গাঢ় হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। তবে আমি এ ক্ষেত্রে একটু মোলায়েম রঙেই থাকছি। তবে পরিপূরক হিসেবে পার্পলের ছোঁয়া সেই অভাব পূরণ করবে।

অতএব, ষষ্ঠীর দুই বেলাতেই এভাবেই নিজেকে অনন্য করে তুলতে পারেন। তবে অবশ্যই যেটাই করুন, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে করবেন, যাতে উৎসবের আনন্দ মাটি না হয়ে যায়।

সবাইকে ষষ্ঠীর শুভেচ্ছা।