৮০% করোনা রোগীরই ভিটামিন ‘ডি’ ঘাটতি, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

ভিটামিন ‘ডি’ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সহায়ক। অথচ করোনাকালীন সময়ে মানুষের শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ এর ঘাটতি বাড়ছে। লকডাউনে বেশিরভাগ সময় ঘরে কাটিয়েছে মানুষ। ফলে মানবশরীর ভিটামিন ‘ডি’ এর প্রধান উৎস সূর্যের আলো পায়নি।

ক্লিনিকাল এন্ডোক্রিনোলজি এন্ড মেটাবলিজম জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- করোনা আক্রান্ত ৮০ শতাংশ রোগীর শরীরে ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি রয়েছে। স্পেনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২১৬ জন রোগীর উপর পরিচালিত গবেষণায় ১৭৩ জনের শরীরেই ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি দেখা গেছে।

৮০% করোনা রোগীরই ভিটামিন ‘ডি’ ঘাটতি, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
‘ভিটামিন ডি‘ এর পর্যাপ্ততা সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: সংগৃহীত

‘ভিটামিন ডি‘ এর পর্যাপ্ততা সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: সংগৃহীত

ভিটামিন ‘ডি’ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সহায়ক। অথচ করোনাকালীন সময়ে মানুষের শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ এর ঘাটতি বাড়ছে। লকডাউনে বেশিরভাগ সময় ঘরে কাটিয়েছে মানুষ। ফলে মানবশরীর ভিটামিন ‘ডি’ এর প্রধান উৎস সূর্যের আলো পায়নি।

ক্লিনিকাল এন্ডোক্রিনোলজি এন্ড মেটাবলিজম জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- করোনা আক্রান্ত ৮০ শতাংশ রোগীর শরীরে ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি রয়েছে। স্পেনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২১৬ জন রোগীর উপর পরিচালিত গবেষণায় ১৭৩ জনের শরীরেই ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি দেখা গেছে।

গবেষণায় যুক্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন- ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে হৃদরোগ ও হাড় দুর্বল হয়ে যায়। কমে যায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাও সৃষ্টি করে। এ কারণে করোনা রোগীদের শরীরের উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেছে। সিরাম ফেরিটিন এবং ট্রোপোনিনের স্তরও বেড়েছে। ফলে সুস্থ হতে হাসপাতালে থাকার সময়ও দীর্ঘ হয়েছে।

প্লস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত আরকটি গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘ডি’ থাকা করোনা রোগীদের শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক ছিল এবং দ্রুত সুস্থতার সংখ্যাও বেশি।
ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ ডায়েট উৎস:

চেন্নায়ের বিখ্যাত পুষ্টিবিদ ডাক্তার প্রীতি রাজ পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণের জন্য একটি নিদিষ্ট ডায়েটের পরামর্শ দিয়েছেন।

ফ্যাটি ফিশ

টুনা, স্যামন, ম্যাকেরল এবং ফিশ লিভার অয়েলের মতো ফ্যাটযুক্ত মাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘ডি রয়েছে। ভিটামিন ‘ডি’ এর ঘাটতি পূরণে খাদ্য তালিকায় নিয়মিত এই খাবারগুলো রাখুন।

দুগ্ধজাত পণ্য

ভিটামিন ‘ডি’ এর জন্য দুধ, পনির এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যগুলি অবশ্যই প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

ডিমের কুসুম

উচ্চ ফ্যাটযুক্ত হওয়ার কারণে অনেকে ডিম থেকে কুসুম ফেলে দেন। তবে ডিমের কুসুমে অধিক পরিমাণে ভিটামিন ‘ডি’ রয়েছে। তাই সবসময় ডিমের কুসুম ফেলে না দিয়ে মাঝে মাঝে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

শস্য বীজ এবং জুস

ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাব পূরণ করার জন্য সকালের নাস্তাটা পুষ্টিকর হওয়া প্রয়োজন। সকালের ডায়েটে শস্যবীজ এবং বিভিন্ন ফলের রস অন্তর্ভুক্ত করুন।

মাশরুম

মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘ডি-২’ এর পুষ্টি রয়েছে। সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার এমনকি স্ন্যাক্সের জন্য তৈরি খাবারেও বিভিন্ন উপায়ে মাশরুম ব্যবহার করুন। মাশরুম খাবারের স্বাদ এবং পুষ্টি দুটোই বৃদ্ধি করবে।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘ডি’ এর পুষ্টির সাথে আপনার ডায়েটকে আরও সমৃদ্ধ করুন। উপরোক্ত খাবারগুরো শুধুমাত্র ভিটামিন ‘ডি’ নয়; অন্যান্য অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টিরও দুর্দান্ত উৎস।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি