শিশুর প্রস্রাবে সংক্রমণ

প্রস্রাব ও মূত্রনালির সংক্রমণ ও প্রদাহ শিশুদের একটা গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রস্রাবের সংক্রমণ থেকে মূত্রনালি ও মূত্রথলিতে সংক্রমণ ও প্রদাহ হয়। বিভিন্ন সময়ে ছেলেদের মধ্যে শতকরা একজন এবং মেয়েদের মধ্যে শতকরা আটজন ১০ বছর বয়সের মধ্যেই প্রস্রাবের এই প্রদাহজনিত রোগে ভুগে থাকে। তবে ছয় মাসের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে মেয়েদের থেকে ছেলেরা বেশি ভুগে থাকে।

লক্ষণ
শিশুদের প্রস্রাবের প্রদাহে বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। নবজাতকের ক্ষেত্রে অনেক দিনের জন্ডিস, ওজন কমে যাওয়া বা ওজন না বাড়া, প্রস্রাবের সময় কান্নাকাটি করা এবং জ্বর সাধারণত প্রস্রাব প্রদাহের প্রধান উপসর্গ।

একটু বড় শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, খিটখিটে ভাব, ওজন কমে যাওয়া, বমি, এমনকি ডায়রিয়া হতে পারে। বড় শিশুরা প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালা-পোড়া, তলপেটে বা কুঁচকিতে ব্যথা হচ্ছে বলতে পারে। আবার প্রদাহের কারণে অনেক শিশুর নতুন করে রাতে ঘুমের মধ্যে বিছানায় প্রস্রাব করার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

কারণ
ই-কোলাই, প্রটিয়াস ও সিডো মনাস নামের বৃহদন্ত্রে বসবাসকারী জীবাণুগুলোর সংক্রমণের কারণে মূত্রনালি ও মূত্রথলিতে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এরা ধীরে ধীরে মূত্রনালির ভেতর দিয়ে ওপরে উঠতে থাকে। বিষাক্ত নিঃসরণের মাধ্যমে আক্রমণ করে মূত্রথলি, এমনকি কিডনি পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

► কোনো কোনো শিশু দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাবের বেগ আটকে রাখে, ফলে মূত্রথলি বড় হয়ে যায় এবং প্রস্রাব থলিতে বেশিক্ষণ প্রস্রাব জমে থাকার জন্য সংক্রমণ ও প্রদাহ হয়।

► অত্যধিক চঞ্চল ও স্বল্প সময়ের মনোযোগী শিশুরা তাড়াতাড়ি বা অল্প সময়ের মধ্যে প্রস্রাব করে ফেলতে চায়, যাতে সে অন্য কিছুতে মনোযোগ দিতে বা নিজেকে ব্যস্ত করতে পারে। তাতে তাদের মূত্রথলি পুরোপুরি কখনোই খালি হয় না।

► স্কুলের টয়লেট অপছন্দ বলে স্কুলে থাকাকালীন, বিশেষ করে ছাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব করে না। ফলে সংক্রমণ ও প্রদাহ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

► অনেকে মল ত্যাগ করার পর ঠিকমতো শৌচকার্য সম্পাদন করে না। এতে মলে মিশ্রিত অন্ত্রের জীবাণুগুলো মূত্রথলি ও মূত্রনালিতে সংক্রমণ করে।

► অনেক সময় ভেসিকো-ইউরোটারিক রিফ্লাক্স ও মূত্রনালির অন্যান্য জন্মগত ত্রুটির কারণে প্রদাহ ত্বরান্বিত হয় এবং বারবার প্রদাহ হতে থাকে। বারবার প্রদাহ হওয়ার ফলে অথবা প্রদাহ দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কিডনি ফেইলিওর বা বৃক্ক অকেজো হয়ে যায়, যাকে শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগ বলে।

করণীয়
প্রস্রাবের প্রদাহকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। শিশুদের ব্যাপারে অভিভাবকদের ব্যাপক সচেতন হতে হবে। এ জন্য কিছু করণীয় হলো :

► শিশুর প্রস্রাবে প্রদাহ সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসককে দেখিয়ে এবং যথাযথভাবে চিকিৎসা করা।

► কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করা।

► শৌচকার্য সঠিকভাবে করা।

► প্রচুর পরিমাণে পানি, তরলজাতীয় খাদ্য খাওয়া।

► প্রস্রাব বেশিক্ষণ আটকে না রাখা।

► অনেক সময় ধরে মূত্রথলি খালি করা। অর্থাৎ পুরোপুরি প্রস্রাব করা।