দেশের শিক্ষিত সমাজের অধিকাংশ মানুষ বই পড়ে না : আহমেদ শিপলু

কবি, লিটলম্যাগ সম্পাদক ও সংস্কৃতিকর্মী আহমেদ শিপলু । তাঁর জন্ম ১৯৭৬ সালের ১৭ জুন। পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জ জেলার কোলাপাড়ার শ্রীনগর গ্রামে। শৈশবে চুয়াডাঙা, আলমডাঙার আলো হাওয়ায় বেড়ে উঠলেও কৈশোর থেকেই ঢাকায় স্থায়ী বসবাস। লেখালেখির শুরু নব্বই দশকের শুরুর দিকে হলেও প্রথম দশকেই তার বিস্তার। প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ ১৫টি, উল্লেখযোগ্য : ক্রাচে ভর দেওয়া যৌবন, মনপাখিটার ডানা কাটা উড়তে মানা, বালিকার আকাশ, প্রজাপতিরা ফিরে গিয়েছিলো, বিষণ্ণ ইস্পাত, বিষবৃক্ষের উল্লাস, কোনো প্রচ্ছদ নেই, হিমঘরে চাঁদের শয্যা, নিমজ্জিত মগ্নমায়া, জিরানো প্যাডেলের রেস্তোরাঁ। সম্পাদনা করেছেন ছোট কাগজ ‘নন্দিতা’, কাব্যকল্প (আবৃত্তিশিক্ষার বই) ও ‘আবৃত্তির শ্রেষ্ঠ কবিতা’। বর্তমানে সম্পাদনা করছেন শিল্প-সাহিত্য ও মুক্তচিন্তার পত্রিকা ‘মগ্নপাঠ’। এর পাশাপাশি তিনি সাংগঠনিক আবৃত্তি চর্চাসহ একজন সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে নিবেদিত। প্রকাশিতব্য কবিতার পাণ্ডুলিপি ‘সরাইখানার রাত’। তার লেখালেখি, নতুন বই ও অন্যান্য প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন তারুণ্যলোকের প্রতিবেদক তাহনিয়া ইয়াসমিন।

তাহনিয়া ইয়াসমিন : সাহিত্যে এলেন কেন এবং কিভাবে?
আহমেদ শিপলু : খুব কম বয়স থেকেই ভাবুক সত্তা আর আউট বইয়ের পঠনপাঠন লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছিল হয়তো।

তাহনিয়া ইয়াসমিন : মেলায় এবার কী বই এসেছিল…
আহমেদ শিপলু : ১. কবিতার বই : জিরানো প্যাডেলের রেস্তোরাঁ। ২. আমার সম্পাদিত লিটলম্যাগ ‘মগ্নপাঠ’ দ্বিতীয় সংখ্যা।

তাহনিয়া ইয়াসমিন : নতুন বই সম্পর্কে বলুন…
আহমেদ শিপলু : তিনটি সিরিজে লেখা ৬৪টি কবিতার এই গ্রন্থটি আমার তেরোতম পাণ্ডুলিপি। এখানে আমি নিজেকে একটু নতুন ভঙ্গিতে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি।

তাহনিয়া ইয়াসমিন :গ্রন্থবদ্ধ লেখাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে যদি বলেন…
আহমেদ শিপলু : তিনটি সিরিজের প্রথমটি বিরামহীন বর্ণোচ্ছ্বাস। এর কবিতাগুলোতে কোনো বিরাম চিহ্ন নেই, পড়তে গেলে একটু দম লাগে, আর বিষয়ের বৈচিত্র্য গভীর উপলব্ধি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এছাড়াও দুইটি সিরিজের মধ্যে রয়েছে করোনাকালের কবিতা, সাইকো সিরিজ। সাম্প্রতিক করোনা মহামারীর প্রেক্ষিতে এই দুটি সিরিজ লেখা।

তাহনিয়া ইয়াসমিন : আপনার পাঠক সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি
আহমেদ শিপলু : পাঠক সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন? এভাবে ভেবে দেখিনি।

তাহনিয়া ইয়াসমিন : বছরের অন্য সময় প্রকাশ না করে মেলায় কেন?
আহমেদ শিপলু : আসলে অন্য সময়ে প্রকাশ হলেও মেলাকে ঘিরেই প্রকাশ ও বিপননের প্র‍্যাক্টিস আমাদের মজ্জাগত হয়ে গেছে।

তাহনিয়া ইয়াসমিন : সামগ্রিকভাবে এবারের মেলা সম্পর্কে আপনার ভাবনা জানতে চাই
আহমেদ শিপলু : যা হবার তা-ই হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে এর চেয়ে ভালোকিছু আসা করা যায় না। বিস্তৃত পরিসরে এবারের মেলা করোনা মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত হলেও পাঠক ক্রেতার জন্য পুরো মেলা ঘুরে দেখা বেশ কষ্টের ছিল।

তাহনিয়া ইয়াসমিন : লেখালেখি চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব কার কাছ থেকে বা কিভাবে
আহমেদ শিপলু : প্রকৃতি, মানুষ ও গ্রন্থপাঠ।

তাহনিয়া ইয়াসমিন : করোনাকালেও বইমেলার প্রয়োজনীয়তা কী? আপনার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বলুন…
আহমেদ শিপলু : করোনার সাথেই আমাদের দীর্ঘকাল কাটাতে হবে, সুতরাং পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলেই এর মোকাবিলা করতে হবে। তাই থেমে থাকা নয় দরকার সচেতনতা।

তাহনিয়া ইয়াসমিন : প্রকাশকদের নিয়ে আপনার অভিমত কি?
আহমেদ শিপলু : সৃজনশীল বইয়ের পাঠক খুবই সীমিত, সেই তুলনায় প্রচুর বই প্রকাশ হয়, যার সিংহ ভাগ বিক্রি হয় না। তাই প্রকাশকদের ব্যাপারে ভালোমন্দ আমি বলি না। তবে এর মধ্যেও যারা বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাচর্চার জন্য বই প্রকাশ করছেন তারা নিতান্তই নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছেন। হাতেগোনা কিছু লেখকের বই ভালো বিক্রি হয় এদেশে, তবে তারাও ঠিক মতো রয়েলিটি পায় বলে মনে হয় না।

তাহনিয়া ইয়াসমিন : কোন কোন ব্যাপারে মনঃক্ষুন্নতা আছে আপনার?
আহমেদ শিপলু : বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজের অধিকাংশ মানুষ বই পড়ে না, বিজ্ঞানমুখী বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাচর্চার থেকে দূরে তাদের বৈষয়িক অবস্থান।

তাহনিয়া ইয়াসমিন : লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
আহমেদ শিপলু : লেখার চেয়ে পড়ার প্রতি আমার আগ্রহ বেশি, পাশাপাশি লেখাটা আমার বেঁচে থাকার অংশ হয়ে গেছে। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পাশাপাশি শিল্প দর্শন ও মুক্তচিন্তার প্রসারে আমার সম্পাদিত পত্রিকা ‘মগ্নপাঠ’ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।