লিটন-মুমিনুলের দুইবার ব্যাটিং

দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন খুব ভালো কেটেছিল ব্যাটসম্যানদের। ৫ ব্যাটসম্যানের স্বেচ্ছা অবসরে বাংলাদেশ লাল দল করেছিল ১ উইকেটে ৩১৪। ব্যাটসম্যানদের জন্য দ্বিতীয় দিন এই রকম ছিল না। এদিন বড় রান পাননি কোনো ব্যাটসম্যান। একমাত্র লিটন দাস দুইবার ব্যাটিংয়ে নেমে একবার করেছেন ফিফটি। এ ছাড়া টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক প্রথমবার শূন্য করে দ্বিতীয়বার করেন ৪৭। এতে ৭১ ওভারে ২২৫ রান করেছে বাংলাদেশ সবুজ দল। বোলাররা এদিন সাফল্য পেয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ৩ উইকেট। এ ছাড়া আবু জায়েদ রাহি এবং তাইজুল ইসলাম নেন ১টি করে উইকেট।

প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন লাল দল অলআউট হয়নি। তবুও দ্বিতীয় দিন আর ব্যাটিংয়ে নামেননি তারা। দলীয় রান বাড়ানোর চেয়ে যে ব্যাটিং-বোলিং প্রস্তুতিটাই মুখ্য। তাই সবুজ দলের হয়ে দিনের শুরুতে উদ্বোধন করেন লিটন দাস ও সাদমান ইসলাম। সাদমান নিয়মিত টেস্ট ওপেনার। দলে পরীক্ষিত ওপেনার না থাকায় লিটনই নামেন তার সঙ্গে। টেস্টে সাধারণত ৬-৭ নম্বরে ব্যাট করেন লিটন। ওপেনার হিসেবে নতুন বলে কেমন করেন সেটাই দেখে নেয়ার ছিল। দলে রাখা হতে পারে নূরুল হাসান সোহানকে। সেক্ষেত্রে ব্যাটিং অর্ডারে সোহান খেলবেন লিটনের জায়গায়। তাই লিটনকে ওপেন করানো হয়। প্রথম সেশনে খেলে তার ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। পেসারদের বিপক্ষে স্বচ্ছন্দে খেলছিলেন বলে স্বেচ্ছা অবসরে যান লিটন। এবার নিজের পজিশনের অপেক্ষা। ওদিকে ওপেনার সাদমান রান পাননি। মাত্র ১৯ করে আউট হন। মুমিনুল তিন নম্বরে নেমে কিছুই করতে পারেননি। কোনো রান না করেই থামেন। এরপর জাতীয় দলে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা ইয়াসির আলি রাব্বিও হতাশ করেন। মাত্র ১৫ করে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। টেস্ট একাদশের অপর সদস্য মোহাম্মদ মিঠুন করেন ২৮ রান।

প্রথম সেশনের পর দ্বিতীয় সেশনে নিজের পজিশনে ব্যাট করতে নামেন লিটন। এবারও তার ব্যাটে রান ছিল। ৬৪ রান করে স্বেচ্ছা অবসরে যান। সবুজ দলের একমাত্র লিটনকেই আউট করতে পারেননি লাল দলের বোলাররা। মুমিনুল দ্বিতীয় দফায় নেমে ৪৭ রান করেন, যা চট্টগ্রামে উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির পর তার সর্বোচ্চ রান। ওই টেস্টের পর থেকেই রান-খরায় ভুগছেন টেস্ট অধিনায়ক। উইন্ডিজের সঙ্গে মিরপুর টেস্টে করেন ২১ ও ২৬। এরপর জাতীয় লিগে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়েও প্রস্তুতি ভালো হয়নি তার। প্রথম রাউন্ডে রাজশাহী বিভাগের সঙ্গে করেন ৬ ও ১৩ রান। পরে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডে করেন ১১ ও ১৩। এরপর নিগোম্বোতে দুই দিনের এই প্রস্তুতি ম্যাচে করলেন ০ ও ৪৭। শেষ পর্যন্ত কিছু রান পাওয়াই স্বস্তি মুমিনুলের জন্য। ক্যারিয়ারে দেশের বাইরে একটিও সেঞ্চুরি নেই তার। ১০ সেঞ্চুরির ৭টিই চট্টগ্রামে, বাকি তিনটি ঢাকায়। শ্রীলঙ্কায় এবার বিদেশে সেঞ্চুরির আক্ষেপ মেটাতে পারবেন মুমিনুল?

লাল দলের হয়ে টেস্ট একাদশের বোলাররা ভালো করেছেন। বিশেষ করে মূল স্পিনার মিরাজের ৪১ রানে ৩ উইকেট নেওয়া স্বস্তির খবর। যে উইকেটে একদিন আগেই নির্বিষ ছিলেন অপর স্পিনার নাঈম হাসান। এ ছাড়া অপর দুই স্ট্রাইক বোলার তাইজুল ও রাহিও উইকেট পেয়েছেন।

আজ সকালে অনুশীলনের ভেন্যু নিগোম্বো ছেড়ে ক্যান্ডিতে যাবে বাংলাদেশ দল। সেখানেই চূড়ান্ত টেস্ট দল ঘোষণা হবে। ২১ এপ্রিল থেকে শুরু টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ।