করোনাকালে আমরা জ্ঞান বিচ্ছিন্ন থাকতে পারি না : শায়লা রহমান

অধ্যাপক শায়লা রহমানের জন্ম ১৯৬৬ সালে রাজধানী ঢাকায়। বাবা অধ্যাপক খন্দকার সাদেকুর রহমান এবং মা হেলেন রহমান। কিশোরকাল থেকেই তিনি লেখালেখি, নজরুল সঙ্গীত, আবৃত্তি ও ক্রীড়া চর্চা করছেন। তিনি জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘চাঁদের হাট’ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। পেয়েছেন আবৃত্তিতে জাতীয় কিশোর পুরস্কার। নিয়মিত লিখছেন জাতীয় দৈনিক ও সাহিত্য পত্রিকায় ছড়া, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ। তার প্রকাশিত আবৃত্তি সিডির সংখ্যা নয়টি। গতবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘বাংলা সাহিত্যের আলোকধারা’। বর্তমানে তিনি ঢাকার লালমাটিয়া মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। সম্প্রতি তার লেখালেখি ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথোপকথনে মিলিত হয়েছেন তারুণ্যলোকের প্রতিবেদক তাহনিয়া ইয়াসমিন। যা পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-

তাহনিয়া : সাহিত্যে এলেন কেন এবং কিভাবে?
শায়লা রহমান : কৈশোর থেকেই লেখালেখির অভ্যাস। প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ক্লাস ফাইভে থাকতে ‘কিশোর বাংলা’ পত্রিকায়। আমার সকল লেখাই প্রায় প্রকাশিত।

তাহনিয়া : মেলায় এবার কী বই এসেছিল। নতুন বই সম্পর্কে বলুন।
শায়লা রহমান : বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সমালোচনামূলক প্রবন্ধ সংকলন। নাম ‘বাংলা সাহিত্যের আলোক ধারা’। মোট ৪১ টি প্রবন্ধ রয়েছে বইটিতে। মূল্য রাখা হয়েছে তিনশত টাকা।

তাহনিয়া : গ্রন্থবদ্ধ লেখাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে যদি বলেন…
শায়লা রহমান : লালন সাঁই, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, জসীম উদদীন, বেগমরোকেয়া, থেকে শুরু করে আল মাহমুদ এবং আসাদ চৌধুরীসহ অনেকের ওপর প্রবন্ধ রয়েছে আর সমাজ বিশ্লেষণধর্মী কিছু প্রবন্ধ রয়েছে।

তাহনিয়া : আপনার প্রবন্ধের পাঠক সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি
শায়লা রহমান : আমার প্রবন্ধের প্রধান পাঠক বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ আর বাংলা সাহিত্যের অনুসন্ধানী পাঠক।

তাহনিয়া : বছরের অন্য সময় প্রকাশ না করে মেলায় কেন?
শায়লা রহমান : বাংলাদেশের সৃজনশীল লেখকেরা এ সময় গ্রন্থ প্রকাশ করেন। বলা যায় এক ধরনের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে একুশে প্রকাশনা। আর বইমেলায় বইটি একবারেই পাওয়া যায়।

তাহনিয়া : সামগ্রিকভাবে গেল বইমেলা সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই

শায়লা রহমান : এবারের বইমেলা দেশের চরম সংকটকালে অনুষ্ঠিত হওয়ায় লেখক-ক্রেতা-বিক্রেতা সবার জন্যই ছিল কষ্টের। কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ অতিমারীর সময় বইয়ের পসরা নিয়ে যে বিপুল ব্যাপক আয়োজনে এবারের বইমেলা সম্পন্ন হয়েছে তা ইতিহাসে স্মরণ যোগ্য হয়ে থাকবে।

তাহনিয়া : লেখালেখি চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব কার কাছ থেকে বা কিভাবে
শায়লা রহমান : লেখক আসলে নিজ প্রেরণায় লেখেন। আমার লেখক জীবনের প্রেরণা আমার আব্বা-আম্মা আর আমার স্বামী নাসিম আহমেদ। তিনি নিজে খুব বড় মাপের লেখক বলেই অন্য লেখকের মর্যাদা আছে তাঁর কাছে।

তাহনিয়া : আমাদের দেশে করোনাকালেও বইমেলার প্রয়োজনীয়তা কী? আপনার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বলুন…
শায়লা রহমান : বই একটি জরুরী পণ্য। যেহেতু বইয়ের মাধ্যমে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি। করোনাকালেও তো আমরা জ্ঞান বিচ্ছিন্ন থাকতে পারি না!

তাহনিয়া : প্রকাশকদের নিয়ে আপনার অভিমত কি?
শায়লা রহমান : সৃজনশীল বই প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রকাশকদের আগ্রহ প্রশংসাযোগ্য।

তাহনিয়া : কোন কোন ব্যাপারে মনঃক্ষুন্নতা আছে আপনার?
শায়লা রহমান : মেলাটি ভালোভাবে চললে আমাদের লেখক -প্রকাশক ও জাতি উপকৃত হতো।

তাহনিয়া : লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
শায়লা রহমান : আমি যতদিন বাঁচি, মহান আল্লাহ যেন আমায় লিখে যাওয়ার তৌফিক দান করেন।