পুষ্পিতার মাথায় ক্ষুদে গানরাজের মুকুট

গাইবান্ধার কিশোরী নুজহাত সাবিহা পুস্পিতাকে ক’দিন আগে কে চিনতো! অথচ এখন এই মেয়েটার ওপরেই সব আলো। তাকে রাতারাতি পরিচিতি এনে দিলো ‘ক্ষুদে গানরাজ’। চ্যানেল আইয়ের আয়োজনে এই সংগীত প্রতিযোগিতার পঞ্চম আসরের বিজয় মুকুট উঠেছে তারই মাথায়। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে অনুষ্ঠিত মহাউৎসবে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয় তার নাম।

মহাউৎসবে পুষ্পিতার পাশাপাশি স্থান করে নিয়েছিলো ঢাকার মেয়ে অর্পিতা, গাজীপুরের কিশোর মহারাজা, ময়মনসিংহের ছেলে মাহিন, জয়পুরহাটের মেয়ে পায়েল, বগুড়ার কিশোরী রাফতি ও কুড়িগ্রামের মেয়ে বিজলী।তবে বিজয়ের হাসি হাসলো পুষ্পিতা। এদিন সে মঞ্চে গেয়ে শুনিয়েছে ‘ওই ঝিনুক ফোটা সাগর বেলা’ গানটি।মনমাতানো পরিবেশনায় দর্শকদের এসএমএস ভোট আর বিচারকদের রায়ে মুকুট জিতলো মেয়েটি।

৬৫ হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে সেরা হওয়ায় পুরস্কার হিসেবে পুষ্পিতা পেয়েছে পাঁচ লাখ টাকার চেক ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে মুকুট-সহ তিন লাখ টাকা মূল্যের গয়না। এ ছাড়া ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০ বছরের জন্য শিক্ষাবৃত্তি, জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের সৌজন্যে স্কুলজীবন পর্যন্ত ফ্রি চিকিৎসা সেবা সনদও এসেছে তার হাতে। আগামীতে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড প্রযোজিত ছবিতে গান গাওয়ারও সুযোগ পাবে সে।

প্রথম রানারআপ হয়েছে বগুড়ার মেয়ে রায়া শারমিলা ইসলাম রাফতি। সে পেয়েছে তিন লাখ টাকার চেক। আর দ্বিতীয় রানারআপ মাহফুজ আহমেদ মাহিন পেয়েছে দুই লাখ টাকার চেক। এ দু’জনও পেয়েছে শিক্ষাবৃত্তি আর চিকিৎসা সেবার সুযোগ।

অনুষ্ঠানে পুষ্পিতার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন রুনা লায়লা। গানে গানে ৫০ বছর পেরিয়ে আসার সুবাদে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই কণ্ঠশিল্পী পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। এবারই প্রথম ‘ক্ষুদে গানরাজ’ প্রতিযোগিতায় যুক্ত করা হলো এই সম্মান। পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও উত্তরীয় গ্রহণের পর রুনা লায়লা দেশের সব অঙ্গনের শিল্পীদের দুঃসময়ে এগিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

মহাউৎসবে রুনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তার গাওয়া ‘ও পায়েরই নূপুর আমার জাদু জানে রে’, ‘বাড়ির মানুষ কয় আমায়’ এবং ‘পরদেশি মেঘ রে’ গানের তালে নেচেছেন অপি করিম। প্রধান দুই বিচারক ফেরদৌস আরা এবং এস আই টুটুলের পাশাপাশি অতিথি বিচারক হিসেবে ছিলেন রুনা।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সিজিল মির্জা ও জেবা আনিকা। সাত প্রতিযোগীর একক পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে ছন্দে ছন্দে কথা বলে দর্শকদের আনন্দ দেন নকুল কুমার বিশ্বাস। পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ইজাজ খান স্বপন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে পুরস্কার তুলে দিতে মঞ্চে আসেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, গ্লোব বিস্কুট অ্যান্ড ডেইরি মিল্ক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুর রশীদ মজুমদার, জহিরউদ্দিন মাহমুদ মামুন ও মুকিত মজুমদার বাবু। এই আসরে চ্যানেল আইকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বুস্টার এনার্জি বিস্কুট।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*