বাংলাদেশিদের ভালোবাসা আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায়

বাংলাদেশিদের ভালোবাসা আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায়

ঘড়ির কাটা তখন রাত দশটার কিছুটা সময় পেরিয়ে। পুরো হলরুম উৎসুক কেবল একজনকে দেখার অপেক্ষায়। যেন গুনে শেষ করা যাচ্ছে এক একটি প্রহর। অনেকে মনে মনে উসখুস করছেন। কখন স্টেজে আসবেন সেই কাঙ্ক্ষিতজন। আর এ কারণেই অনেকে নিজের মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় প্রিয় তারকারে ধরে রাখার জন্য আগেভাগেই নিশানা ঠিক করে রাখছেন।

অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটে। পুরো হলরুমের আলো নিভে গেলো। চারিদিকে তখন পিনপতন নিরবতা। এরমধ্যেই হঠাৎ করেই মঞ্চে আলোর ঝলকানি আর কাঙ্ক্ষিতজনের আগমন। যার কথা বলছিলাম, তিনি সুস্মিতা সেন, বলিউড হাটথ্রুব সুন্দরী।

মুহুর্তের মধ্যেই ফটো সাংবাদিকদের ক্যামেরার শাটারের শুধু ক্লিকের শব্দই আরেকবার জানান দিচ্ছিলো ওই নায়িকার জনপ্রিয়তা। দু’হাত দু’দিকে মেলে দিয়ে ওপরের দিকে তাকালেন। ঠোঁটে তার স্মিত হাসি। লম্বা লম্বা পা ফেলে এ কোণ থেকে ও কোণে যাচ্ছেন। কখনও বা হাওয়ার ভাসিয়ে চুমু দিচ্ছেন, তালি বাজাচ্ছেন, প্রণতি জানাচ্ছেন। ভঙ্গিমার আদলে দেখাচ্ছেন এ দেশের মানুষের কৃতজ্ঞতায় তার মাথা নিচু হয়ে আসছে। প্রায় ক্ষীণ কণ্ঠেই বললেন ‘আই অ্যাম গ্রেটফুল!’

প্রায় দু-মিনিটের কাছাকাছি সময় গাউন পরা এ বলিউড সুন্দরী স্টেজে অবস্থান করেন। এরইমধ্যে আলোর সঙ্গে মিশে স্টেজ থেকে তিনি বিদায় নেন! এতো অল্প সময়ের জন্য প্রিয় তারকাকে দেখে কার মন ভরে! মনে হয় সবার মনে তখন এ প্রশ্নটাই ছিলো! মনে মনে অনেকে আক্ষেপও করছিলেন। কিছুক্ষন পরেই মঞ্চে আবার আবির্ভাব ঘটে এ বলিউডি কন্যার। তবে এবার তিনি একা নন। তার সঙ্গে হেয়ার ও মেকাপ আর্টিস্ট ড্যানিয়েল। আর এ দিনের চুলের সাজ তারই হাতে করা।

বাংলাদেশিরা কেন তার হৃদয়ে এ বিষয়ে বাঙালি এ মেয়ের ভাষ্য, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেখেছি। ভারত- বাংলাদেশেও দেখেছি, বাংলাদেশিদের ভালোবাসা আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আই লাভ বাংলাদেশ।’ ইংরেজি আর বাংলার মিলিয়ে বললেন, ‘বাংলাদেশিরা আমার হৃদয়। এবার নিয়ে তিনবার ঢাকায় এলাম। হ্যাটট্রিক সফর এটা।’

উপস্থাপিকার প্রশ্ন বাংলাদেশে এসে কেমন লাগল? সুস্মিতা জানালেন ‘মনে হয়েছে নিজের বাড়িতেই এসেছি। লাভ উ অল। নমস্কার ঢাকা। আমিতো বাংলায় কথা বলতে পারি। আমার অনেক বাঙ্গালী বন্ধু আছে। হ্যাঁ আমি বাঙ্গালী বাংলায় কথা বলতে পারি। কথায় কথায় তিনি আরো জানালেন,‘ আমি কিন্তু বাংলায় গানও গাইতে পারি। এরপর আধো আধো ভাঙা কণ্ঠে গাইলেন, ‘আমি চিনিগো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী’র কয়েকটি লাইন। এরপরই বিদায়ক্ষণ দরজায় কড়া নাড়ছিলো । নমস্কার ঢাকা। আবার দেখা হবে’।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাত ৮টা ৩০ মিনিটে নেমেসিস ব্যান্ডের জোহাদের কণ্ঠে ইংরেজি গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর আসেন সঙ্গীতশিল্পী এলিটা। রাত তখন ৯টা ৩০ মিনিট। মঞ্চে একে একে প্রবেশ করেন বিদ্যা সিনহা মীম, সাদিয়া ইসলাম মৌ, মেহজাবিন চৌধুরীসহ দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধশত খ্যাতনামা র‌্যাম্প মডেল।

গতকাল শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইউনিলিভারের ‘ট্রেসেমে’ নামের একটি শ্যাম্পুর বাজারজাতকরণ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় একটি ফ্যাশন-শোর। আর ট্রেসেমে ফ্যাশন-শো আলোকিত করতেই বাংলাদেশে আসেন সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী।

চার বছর পর গত রোববার দুপুর সাড়ে বারটায় জেট এয়ারওয়েজের উড়োজাহাজে চড়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সোমবার সকালে মুম্বাই ফিরে যাবেন বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন।

সুস্মিতা সেন ২০ বছর আগে ভারতের জন্য প্রথম মিস ইউনিভার্স শিরোপা জেতেন।। ভারতের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণ করা সুস্মিতা বলিউডে যাত্রা শুরু করেন ‘দত্তক’ ছবির মাধ্যমে। ‘ম্যায় হু না’ ছবিতে শাহরুখ খানের বিপরীতে অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা দেখান তিনি। সুস্মিতা সেন অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে আছে ‘বিবি নম্বর ওয়ান’, ‘ম্যায়নে পিয়ার কিউ নে কিয়া’, ‘ফিজা’, ‘হিন্দুস্তান কসম’, ‘বাওয়াফা’, ‘ইট ওয়াজ রেইনিং দ্যাট নাইট’, ‘দুলহা মিল গিয়া’ প্রভৃতি।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*