কোন দেশে কোন সংখ্যা অপয়া এবং কেন?

কুসংস্কার নিয়ে নানা মানুষের নানা মত৷ স্থান বিশেষে মানুষের মধ্যে কুসংষ্কারও এক এক জিনিস নিয়ে৷ এছাড়াও ধর্মেভেদেও রয়েছে কুসংস্কারের পার্থক্য৷ যেমন কালো পোশাক হিন্দুদের কাছে অশুভ কিন্তু মুসলিমদের কাছে সেটাই শুভ৷ এরকমই সংখ্যা নিয়েও সংস্কার রয়েছে মানষের মধ্যে৷ এক এক জায়গার মানুষের মধ্যে এক এক সংখ্যা অশুভ৷ তার পিছনে রয়েছে কিছু অদ্ভুত যুক্তিও৷ দেকে নিন কোন জায়গার মানুষের মধ্যে কেন কোন সংখ্যা অশুভ?
১. ৩৯ (ঊনচল্লিশ)
আফগানিস্থানের মানুষের মধ্যে অদ্ভুতরকমের দুর্বলতা রয়েছে এই সংখ্যাটিকে নিয়ে। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও একথা সত্যি৷ এখানে কোনও মানুষ নিজেদের ব্যবহার্য কোনও কিছুতেই ৩৯ দেখতে পারেন না। বরং তাদের কাছে অভিশাপ এই সংখ্যাটি।
ওই জায়গার মানুষের ধারণা কোনও একসময় কিছু ব্যাভিচারী ৩৯ নেমপ্লেটের গাড়ি চালাতো আর ৩৯ নম্বর বাড়িতে থাকতো। সেই থেকেই এই অবস্থা। অনেকে আবার পরিমাপের পুরোনো এক নিয়ম অ্যবজাডের প্রতি ঘৃনার কারণেও এড়িয়ে চলেন এই সংখ্যাটিকে। তবে কারণ যাই হোক না কেন, ১৭,০০০ ডলারের একটা গাড়িও ৭,০০০ টাকায় বেঁচে দেওয়া সম্ভব হয় এখানে যদি কেবল এর পেছনে লাগানো থাকে ৩৯ শব্দটি। শুধু তাই নয়, ৩৯ সংখ্যাটিকে এতটাই ঘৃণা করে এখানের মানুষ যে নিজেদের বয়স ৩৯ হলেও সেটাকে লুকিয়ে ফেলে তারা কিংবা ৪০ বলে জানায়।

২. ০৮৮৮ ৮৮৮ ৮৮৮
বুলগেরিয়ান মোবাইল কোম্পানির এই ফোন নাম্বারটি প্রথমে ব্যবহার করেন কোম্পানির সিইও ভ্লাদিমির গ্রাসনোভ। প্রতিপক্ষের দেওয়া বিষে মারা যান তিনি। এরপর এই নম্বরটি যায় মাদক সম্রাট কন্সটান্টিন দিমিত্রোভের কাছে। কয়েকদিন পর মারা যান এই মানুষটিও। এরপর তার হাত থেকে মোবাইল যায় আরেক মাদক সম্রাটের কাছে। আর আন্দাজ করুন তো কি হয়েছিল তার সঙ্গে? হ্যাঁ! ঠিক ধরেছেন। অপঘাতে মারা যায় এই লোকটিও। পরপর অপঘাতে তিনজনের মৃত্যুর পর মোবাইলটি বন্ধ করে ফেলা হয়। এখন পর্যন্ত সেটিকে আর কেউ ব্যবহার করেনি।

৩. ১৭ (সতেরো)
ইটালিতে ১৭ সংখ্যাটিকে প্রচন্ড অপয়া বলে মনে করা হয়। বাইবেলে বর্ণিত বন্যার শুরু হয়েছিল ফেব্রুয়ারীর ১৭ তারিখে। এছাড়া রোমান হরফে ১৭ লিখে খানিকটা এদিক ওদিক করলেই সেটি হয়ে ওঠে ভিক্সি। যার অর্থ দাড়ায় এরকম – আমি জীবিত ছিলাম। অর্থাৎ, সে এখন মৃত! আর তাই ১৭ নম্বরটিকে কেউই পছন্দ করে না এখানে। হোটেলের কামরায় কিংবা কোনও স্থানে এই নম্বরটি থাকে না। ১৬ এর পর ১৮ শুরু হয়। আর দিনের ক্ষেত্রে তো কোন কথাই নেই! বিশেষ করে ১৭ তারিখ যদি শুক্রবার দিনে পড়ে তাহলে এটাকে ভয়ানক অপয়া মনে করা হয়। আর যদি হয় সেটা নভেম্বরের কোন দিন তাহলে পুরো মাসটাকেই অপয়া বলে ধরে নেওয়া হয়।

৪. ২৫০ (দুইশত পঞ্চাশ)
চীনে ২৫০ শব্দটির ইতিহাসের শুরু হয় তামার মূদ্রার সময় থেকে। সে সময় মূদ্রার ভালো মান ধরা হতো ১০০০ থেকে। এর অর্ধেক, মানে ৫০০ মূদ্রা থাকলে বুঝতে হবে সে একটু নীচু জাতের। আর এর থেকেও কম, ২৫০ মূদ্রা থাকলে বুঝতে হবে সে ভয়ানক নীচু শ্রেণীর। আর এই ব্যবহার থেকেই ২৫০ নিয়ে খারাপ ধারণা জন্মে গিয়েছে চীনাবাসীদের মনে। ২৫০ সংখ্যাটিকে খুব জেনে বুঝেই এড়িয়ে চলে তারা। কিছুদিন আগে গালফস্ট্রিম জি ২৫০ নামের একটি বিমান পর্যন্ত নিজের নাম বদলে ফেলে জি ২৮০ করে ফেলেছে এই কারণে।

৫. ৭ (সাত)
সাতকে অনেকে ভালো বা সৌভাগ্যের বাহক বলে মনে করলেও চীনে কিন্তু জিনিসটি একেবারেই নেতিবাচক ইঙ্গিত প্রকাশ করে। ওই দেশে সাত মানে মৃত্যু, ভয়, বিপদ। চাইনিজ ক্যালেন্ডারের সাত নম্বর মাসটিকে অপয়া বলে মনে করা হয়। ডাকা হয় ভূতুড়ে মাস নামে। মনে করা হয় এই মাসে ভূত বেরিয়ে আসে। সংখ্যাটিকে অপয়া বলার আরও বেশ কিছু কারণ আছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে জুলাই এর ১৭ তারিখে ১৭:১৭ পূর্ব ইউক্রেনে এমএইচ১৭ ধ্বংস হয়। এর সঙ্গে জড়িত ছিল ৭৭৭ বোয়িং, যেটা ব্যবহার করা হচ্ছিল ১৭ বছর ধরে। এছাড়াও বিমান দূর্ঘটনার আরও অনেক নমুনায় সাত সংখ্যাটি উপস্থিত থাকায় এটাকে অপয়া মনে করা হয়।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*