ঘড়ির কারণে গ্রেপ্তার, তারপরই ‘হিরো’ আহমেদ

ডালাস শহরের ঘরে বসে একটি ঘড়ি বানিয়েছিল আহমেদ মোহামেদ৷ তা নিয়েই শুরু হয়ে গেল হুলুস্থুল৷ প্রথমে গ্রেপ্তার৷ তারপর থেকে চলছে গ্রেপ্তারের নিন্দা আর আহমেদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ৷ বারাক ওবামাও দাওয়াত দিয়েছে তাকে!

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ‘ঘড়ি কাণ্ডে’ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাওয়া মুসলিম বালক আহমেদ মোহাম্মদের বাবা বলেছেন, ‘ঘটনার আকষ্মিকতায় আহমেদ ভয় পেয়ে গেলেও এখন সে খুশি।’ আহমেদের পরিবার জানিয়েছে তার স্কুল পরিবর্তন করা হবে।

গত কয়েকদিনে মিডিয়ার ক্রমাগত আগ্রহ ও কৌতূহল মেটাতে মেটাতে ক্লান্ত আহমেদ কিছুটা বিশ্রাম চান এখন। তার আবিস্কৃত ঘড়িটি এখনো পুলিশের কাছে। পুলিশের কাছ থেকে ঘড়িটি ফেরত নেয়ার পর হোয়াইট হাউজে ওবামাকে দেখাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তিনি। এক টুইটে ওবামা ঘড়িটি সহ আহমেদকে হোয়াউট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

আহমেদের বাবা অভিযোগ করেছেন, গায়ের রং এবং ধর্মের কারণেই তার ছেলে এমন হেনস্তার শিকার হয়েছে। যদিও পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আহমেদের গ্রেফতারের পর স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে কিছু জানায়নি। পুলিশের ফোনেই প্রথম ঘটনা সম্পর্কে জানেন আহমেদের বাবা। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে বিষয়টি না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ছেলেকে গ্রেফতারের পর পুলিশ ক্যাম্পে ছুটে যান বাবা। গিয়ে দেখেন তার ছেলেকে হাতকড়া পড়া অবস্থায় পাঁচজন পুলিশ ঘিরে রেখেছে।এমনকি স্কুল কর্তৃপক্ষ তিন দিনের জন্য আহমেদকে স্কুলে নিষিদ্ধ ঘোষণাও করেছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ঘড়িকে বোমা ভেবে মুসলিম কিশোরকে গ্রেপ্তার ও হেনস্থার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ আর বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই টেক্সাস পুলিশকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছে। এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের তরফেও।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দনের বন্যায় ভাসছেন আহমেদ।ইতিমধ্যেই এমআইটিতে পড়াশোনার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন, ফেসবুক ও টুইটারের মত প্রতিষ্ঠানে চাকরীর অফারও মিলেছে তার।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*