আমি পাঠককে ঠকাই না

তরুণ কবি, কথাসাহিত্যিক ও গল্পকার ফারজানা মিতুর জন্ম ১১ই ডিসেম্বর। বাবা মায়ের প্রথম সন্তান হিসেবে অনেক আদরে কেটেছে ছেলেবেলা। কখনো ভাবেননি লেখার মাঝে নিজেকে এভাবে বিলিয়ে দেবেন কিন্তু তাই হয়েছে। ফারজানা মিতুর ধ্যান ধারণা এখন সবই ছড়িয়ে আছে লেখালিখির মাঝে। অনবরত লিখে যেতে পারেন এই কথাশিল্পী। লেখালিখি কখনো ওনাকে ক্লান্ত করতে পারেনা। সম্প্রতি তিনি কথা বলেন একুশে গ্রন্থমেলা, নতুন বই ও অন্যান্য প্রসঙ্গে।

23333

তারুণ্যলোক: মেলায় আপনার কী বই আসছে?

মিতু: এবার মেলায় ৭টি বই আসছে। ৫টি আসছে দিব্য প্রকাশ থেকে। বইগুলো হচ্ছে, ‘প্রিয়তমেষূ আমার’, ‘আজ দীঘির বিয়ে’, ‘গল্পটি অন্যরকম হতে পারতো’, ‘শ্রাবণধারায় এসো’, ‘ভৌতিক উপন্যাস লীলা’। আর দেশ পাবলিকেশন্স থেকে আসছে, ‘তিতিরের মন ভালো নেই’ এবং ‘থাকো আমার না থাকা জুড়ে’।

তারুণ্যলোক: নতুন বই সম্পর্কে বলুন…

মিতু: আমার লেখার মূল উপজীব্য বিষয় হচ্ছে প্রেম। আমার সব বইতে পাঠক তাই খুঁজে পান প্রেম আর সংঘাতের সাধ। এবারও তার বাইরে আমি খুব একটা যাইনি। আমার ৭টি উপন্যাসের ৫টিই প্রেমের উপন্যাস আর একটি জীবনধর্মী আর আরেকটি ভৌতিক। আমার সব বইতেই আমি চেষ্টা করেছি ভিন্নতার সাধ রাখতে, যাতে পাঠকের যথাযথ তৃষ্ণা মেটে। আমি পাঠককে ঠকাই না, তাই আমার প্রতিটা উপন্যাসে আমি এমন সব চরিত্র কিংবা সংলাপ আনার চেষ্টা করি যা পাঠককে বইয়ের মাঝে ধরে রাখবে। বই পড়তে যেয়ে কারও মনে হবে না বই ছেড়ে উঠে যেতে।

তারুণ্যলোক: মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনার ভাবনা

মিতু: মেলায় যেহেতু শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের পাঠক আসেন তাই মেলায় সবার আগে দরকার নিছিদ্র নিরাপত্তা। তারপর দরকার সুন্দর, পরিছন্ন পরিবেশ। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। ধুলোবালির কারণে অনেকেই মেলায় আসতে স্বস্তিবোধ করেননা তাই সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

 তারুণ্যলোক: উপন্যাসের পাঠক সর্ম্পকে আপনার মূল্যায়ন…

মিতু: কথাসাহিত্যের পাঠক বেশি। আমরা যদি খেয়াল করি তাহলে দেখবো হুমায়ূন আহমেদ কিংবা ইমদাদুল হক মিলনের পাঠক বেশি আর ওনারা যা লিখেছেন তার সবই উপন্যাস। আর এই উপন্যাসের পাঠক মূলত তরুণ সমাজ। এখন অনেকেই অনেক সময় উপন্যাসের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হয় কিন্তু দিনশেষে সেই সব বই কিনে যেসব বিষয়ভিত্তিক। তাই হয়তো আনিসুল হকের ‘মা’ উপন্যাসটির এতো চাহিদা। তরুণ সমাজ এখন অনেক বেশি রুচিশীল তাই তাদের হাতে যে উপন্যাস যাচ্ছে সেটাও সময়নির্ভর আর মান সম্পন্ন উপন্যাস।

তারুণ্যলোক:  বছরের অন্য সময় প্রকাশ না করে মেলায় কেন?

মিতু: এই কথা আমার বেলায় খাটে না কারণ আমি মেলা ছাড়াও বই বের করি। সেপ্টেম্বর মাসেই আমার একটা বই এসেছে। বইমেলায় যেভাবে লেখক পাঠক সমাবেশ গড়ে ওঠে সেভাবে বছরের আর কোন সময় এটা দেখা যায়না। দেশের সব অঞ্চল থেকে পাঠক আর বোদ্ধারা এসে ভিড় জমান। লেখক যেমন সেসময় বই বের করে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তেমন পাঠকও সেসময় উদ্দাম উৎসাহে বই কিনে থাকেন। বইমেলায় যেভাবে বইয়ের প্রচার প্রচারণা হয় সেভাবে অন্য সময় হয় না। তাই সারা বছর ধরে লেখক যেমন অপেক্ষা করেন পাঠকের হাতে বই তুলে দেবার, তেমনি পাঠকও অপেক্ষায় থাকেন অসংখ্য বইয়ের মাঝে নিজের পছন্দের বই খুঁজে নেবার।

 তারুণ্যলোক: আপনার সাহিত্য চর্চা শুরু যেভাবে…

মিতু: সাহিত্য জিনিসটা এমন সেটা নির্দিষ্ট সময় ধরে মানুষের ভেতরে আসে না। এটা শুরু হয়ে একটু একটু করে। আমারও তাই হয়েছে। সেই স্কুল জীবনে বন্ধুদের কার্ডে, গিফটে ৩/৪ লাইন লিখতে লিখতে একদিন দেখলাম ৭/৮ লাইনের কবিতা দাঁড়িয়ে গিয়েছে। সেই ভাবে একটু একটু করে জমে গেলো অনেক কবিতা। আমার প্রথম তিনটে বই ছিল কবিতার। তারপর একদিন লিখে ফেললাম উপন্যাস। এখন দেশের সব পত্র পত্রিকায় বলতে গেলে নিয়মিত লিখে চলেছি গল্প আর কলাম।

 তারুণ্যলোক: আপনার বন্ধু বা পরিচিতজনদের কী কী বই আসছে?

মিতু: অনেকেরই অনেক বই আসছে এবারের মেলায়, যারা সবাই আমার কাছের মানুষ। উল্লেখযোগ্য বইয়ের নাম হচ্ছে… সাদাত হোসেনের ‘মানব জনম’, জান্নাতুল নাইম প্রীতির ‘নারীর নাড়ি’ ও ‘প্রেমিক’, আবদুল্লাহ আল ইমরানের ‘দিবানিশি’, মোস্তফা কামালের ‘অগ্নিকন্যা’, লুৎফর হাসানের ‘মানিব্যাগ’, সিনহা মনসুরের ‘এক মুক্তিযোদ্ধার না বলা কথা’, জসিম মল্লিকের পরীর মতো মেয়ে’, ‘আমার মা’, অপূর্ব শর্মার ‘মুক্তিযুদ্ধের কিশোর ইতিহাস’।

 তারুণ্যলোক: গ্রন্থমেলা সম্পর্কে আপনার ভাবনা

মিতু: গ্রন্থমেলা একসময় শুরু হয়েছিলো মাটিতে পাটি বিছিয়ে। আর এখন বিশাল কলবরে হচ্ছে। আশা করি সামনে এটার পরিধি অনেক বাড়বে। যাতে লেখক পাঠক আর প্রকাশকের প্রাণবন্ত মিলনমেলা হয়ে ওঠে।

সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব…

মিতু: খুব ছোট বয়স থেকেই বই পড়ার অভ্যাস। পরিবারে আমার আম্মা কিংবা অনেকে লিখলেও প্রেরনা বলতে যেটা বোঝায় সেটা পাইনি কখনো। অনেকে অনেকদিন পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারেনি যে আমি আসলেই কি লিখছি। আর লেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছে বই পড়তে পড়তে। আমার পড়া বইয়ের তালিকায় ছিলো, সমরেশ মজুমদার, শীর্ষেন্দু, সুনীল আর হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ুনের সব বই পড়েছি অনেক অনেক বার। আমার লেখায় অনেকেই অনেক সময় বলেন যে হুমায়ুনের ছোঁয়া খুঁজে পান আর এটা হতেই পারে। তবে আমি চেষ্টা করি সেই প্রভাব কাটিয়ে নিজের মতো করে লিখতে।

সাক্ষাৎকার : মাহতাব শফি