থমকে থাকা জীবনে খাবারদাবার

ধীরলয়ে হলেও করোনাকালে থমকে থাকা জীবনে আসছে স্বাভাবিকতা। বুঝে ওঠার আগেই আমরা প্রবেশ করেছি ‘নতুন স্বাভাবিক জীবনে’।

তবে নতুন স্বাভাবিকতার মধ্যে অভ্যস্ততা ও সক্ষমতায় আছে বৈপরীত্য। মানুষ চালিয়ে যাচ্ছে সে লড়াই। অন্য সব ব্যবসার মতো রেস্তোরাঁও এর বাইরে নয়। রাজধানীর অনেক রেস্তোরাঁর মধ্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এশিয়ান খাবারের মেনু দেওয়া দোকানগুলো।
করোনার আগে এসব দোকানে বিলাসিতা করে যাঁরা নিত্যদিন আসতেন, তাঁরা এখন একেবারেই অনুপস্থিত। একেবারেই খদ্দের নেই এখন এসব রেস্তোরাঁয়।

তবু দোকানিরা অপেক্ষা করছেন মৃদু আলো জ্বালিয়ে। সঙ্গে নিয়েছেন যথেষ্ট সতর্কতা। প্রত্যাশা করেন, হঠাৎ হয়তো আসবেন কেউ। চারদিক সুনসান, আর ফাঁকা চেয়ার-টেবিলগুলোর অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হয়। দু-একজন হয়তো আসছেনও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখে, তবে খাবার নিয়ে তাঁদের মধ্যে আছে সংশয়। কেউ হয়তো আসছেন নতুন স্বাভাবিকতাকে গ্রহণ করেই।

সুশি সামুরাই রেস্তোরাঁর সুপারভাইজার মো. সালাউদ্দিন জানালেন, তাঁদের খাবারে আধা প্রক্রিয়াজাত মাছ ব্যবহারের কারণে ভোজনরসিকদের সংখ্যা করোনাকালে কম হতে পারে। তবে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই রেস্তোরাঁ এখন সুশির মতো জাপানি কেতার খাবারগুলো আরও বেশি প্রক্রিয়াজাতকরণের মধ্য দিয়ে প্রস্তুত করছে। এতে স্বাদে পরিবর্তন আসছে এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাড়ছে।

অনলাইনে খাবার ডেলিভারি দেওয়া মাধ্যম ফুডপান্ডার রাইডার মো. রিপন শেখ বললেন, করোনার সময়ের তুলনায় এখন অনলাইনে অর্ডার বেশি হচ্ছে। তবে এশিয়ান ফুড আইটেমগুলোর চাহিদা কম। কিন্তু যতটুকু অর্ডার আসছে, তাতে তিনি ভালোই আছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় বসে খাবারের জন্য অপেক্ষার চেয়ে এখন খাবারবিলাসীরা ঘরে বসে অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে নিরাপদে খেতে বেশি পছন্দ করছেন। এই সেবায় অভ্যস্তও হচ্ছেন দ্রুত। তবে রেস্টুরেন্টে আড্ডা দিতে দিতে খাওয়ার আনন্দটা মিস করেন অনেকেই। আর মালিক কর্তৃপক্ষ বলছেন, অনলাইন সেবার সুযোগটুকু থাকায় তাঁরা কোনোভাবে কর্মীদের বেতন ও আনুষঙ্গিক কিছু খরচ চালিয়ে নিতে পেরেছেন। তবে শুধু অনলাইন অর্ডারের ওপর নির্ভর করলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হবে তাঁদের জন্য।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*