কিডনির ক্ষতি করে যে ৫ খাবার

লাইফ স্টাইল

আমাদের সুস্থ রাখার জন্য নিরলস কাজ করে যায় শরীরের যেসব অঙ্গ, কিডনি তার মধ্যে অন্যতম। এই কিডনি ভালো রাখার জন্য আপনি কী করছেন? আপনার প্রতিদিনের খাওয়া খাবার অনেকাংশে দায়ী থাকে কিডনি নষ্ট করার জন্য। আবার আপনার স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকা পারে এই অঙ্গকে ভালো রাখতে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলেও কিডনিতে সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কিডনির কাজ সম্পর্কে জানেন? এটি আমাদের শরীর থেকে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত তরল অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেইসঙ্গে রক্তে পানি, লবণ এবং খনিজ উপাদানের স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য বজায় রাখে। সুস্থ থাকার জন্য এর বিকল্প নেই। এদিকে আপনার অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস কিডনির কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। জেনে নিন এমন ৫ খাবার সম্পর্কে যেগুলো কিডনির জন্য ক্ষতিকর-

প্রোসেসড ফুড

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোসেসড ফুড যেমন হিমায়িত খাবার এবং মাইক্রোওয়েভে রান্না করা খাবার টাইপ ২ ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয় অনেকটাই। অতিরিক্ত চর্বি, চিনি বা সোডিয়ামে ভরা এসব খাবার আপনার কিডনির ক্ষতি করার জন্য যথেষ্ট। প্রসেসড ফুড এড়িয়ে তাই তাজা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। দোকানের খাবারের বদলে বাড়িতে তৈরি খাবার খেতে হবে।

মেয়োনিজ

ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে মেয়োনিজ ব্যবহার করা হয়। সালাদ, স্যান্ডুইচ, বার্গারে ব্যবহার করা হয় এটি। এটি কিডনির জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়। এক টেবিল চামচ মেয়োনিজে থাকে ১০৩ ক্যালোরি। এ ধরনের খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে সবচেয়ে বেশি। যদি খেতেই হয় তবে ফ্যাট ছাড়া এবং কম ক্যালোরির মেয়োনিজ খান। এতে সোডিয়াম ও চিনির পরিমাণ যেন অতিরিক্ত না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

আলুর ডিপ ফ্রাই

আলুর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা আলুর চিপস খেতে দারুণ লাগে নিশ্চয়ই? কিন্তু মজাদার এই খাবার আপনার কিডনির বারোটা বাজানোর জন্য যথেষ্ট। এ ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা আজই বাদ দিন। কিডনি ও হার্ট ভালো রাখতে ডুবো তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। আলুতে পটাশিয়াম থাকে অনেক বেশি যা কিডনির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

প্রক্রিয়াজাত মাংস

প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন বেকন, সসেজ, হট ডগ এবং বার্গার প্যাটিস ইত্যাদি কিডনির বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
উচ্চ সোডিয়াম জাতীয় খাবার রক্তচাপ বাড়ায়, এটি কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপের কারণ হতে পারে। কিছু গবেষণায় বলা হয় যে, বেশি প্রাণী প্রোটিন গ্রহণ করলে কিডনি রোগের আশঙ্কা বাড়তে থাকে।

কোমল পানীয়

কোমল পানীয়তে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। সেইসঙ্গে এতে থাকে না কোনো পুষ্টিগুণও। এটি খাবারের অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে, যে কারণে বেড়ে যায় ওজন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কোমল পানীয় পান করলে তা অস্টিওপোরোসিস (হাড় দুর্বল এবং ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া), কিডনি রোগ, মেটাবলিক সিনড্রোম এবং দাঁতের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।