তাহাজ্জুদ নামাজ।জীবনে অভাবনীয় পরিবর্তনের আমল।

ধর্ম লাইফ স্টাইল হোম

তাহাজ্জুদ_নামায।

  1. সালাতুল্লাইল__বা__তাহাজ্জুদ।
    ______

বইঃ সহীহ মাসনূন ওযীফা
লেখকঃ ডঃ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহি)
_____

ইশার সালাতের পর থেকে ফজরের সালাতের ওয়াক্ত শুরুর পূর্ব পর্যন্ত যা কিছু “নফল” বা অতিরিক্ত নামায আদায় করা হবে সবই “কিয়ামুল্লাইল” বা সালাতুল্লাইল অর্থাৎ “রাতের সালাত” বলে গণ্য হবে।

রাতে কিছু সময় ঘুমিয়ে উঠে সালাত আদায় করলে তাকে “তাহাজ্জুদের সালাত” বলা হয়।

কেউ যদি ইশার সালাত আদায় করে রাত ৯ টা বা ১০ টায় ঘুমিয়ে পড়েন এবং ১১/১২ টায় উঠে নফল সালাত আদায় করেন তবে তা “কিয়ামুল্লাইল” ও “তাহাজ্জুদ” বলে গণ্য হবে।

পক্ষান্তরে কেউ যদি ইশার পরে না ঘুমিয়ে রাত ১১/১২ টার দিকে বা তার পরে কিছু নফল সালাত আদায় করেন তবে তা “কিয়ামুল্লাইল” বলে গণ্য হলেও “তাহাজ্জুদ” বলে গণ্য নয়।

ইসলামের অন্যতম নফল ইবাদত কিয়ামুল্লাইল । প্রথম রাতে বা শেষ রাতে, ঘুমানোর আগে বা ঘুম থেকে উঠে অন্তত কিছু নফল সালাত আদায় করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।

একটু ঘুমিয়ে উঠে তাহাজ্জুদ রূপে কিয়ামুল্লাইল আদায় করলে তার সাওয়াব ও মর্যাদা বেশি।

রাতের শেষ ভাগে তা আদায় করা সর্বোত্তম ।

কুরআন কারীমে কোন সুন্নাত নফল সালাতের উল্লেখ করা হয়নি, কিন্তু কিয়ামুল্লাইল ও তাহাজ্জুদের সালাতের কথা বারংবার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে ।

কুরআন ও হাদীসের নির্দেশনার দিকে দৃষ্টি দিলে আমরা নিশ্চিত ভাবে বুঝতে পারি যে, রাতের একাকী মুহূর্তে কিছু সময় আল্লাহর যিকরে, তাঁর সাথে মুনাজাতে এবং তাঁরই ( আল্লাহর ) ইবাদাতে ব্যয় করা মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ।

কুরআনের প্রায় ২০ আয়াতে কিয়ামুল্লাইল তাহাজ্জুদের কথা বলা হয়েছে ।

কিয়ামুল্লাইল বা সালাতুল্লাইলের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত বেশি নির্দেশনা দিয়েছেন যে, এ বিষয়ে বর্ণিত সহীহ হাদীসগুলি একত্রিত করলে একটি বৃহদাকৃতি পুস্তকে পরিণত হবে।

আমর ইবনু আমবাসাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,” মহান প্রতিপালক তাঁর বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন রাতের শেষ অংশে। কাজেই তুমি যদি সে সময়ে আল্লাহর যিকিরকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পার তবে তা হবে।” হাদীসটি সহিহ [1]

অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,” ফরয সালাতের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ সালাত রাতের সালাত বা রাতের গভীরে আদায়কৃত সালাত।” [2]

অন্য হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,” হে মানুষেরা তোমরা সালামের প্রচলন কর, খাদ্য প্রদান কর, আত্মীয়তা রক্ষা কর এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় কর, তাহলে তোমরা শান্তিতে নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” হাদীসটি সহীহ [3]

আবু উমামা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,” তোমরা অবশ্যই কিয়ামুল্লাইল পালন করবে। কারণ তা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককার মানুষদের অভ্যাস, তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের নৈকট্য, পাপের ক্ষমা, পাপ থেকে আত্মরক্ষার পথ এবং দেহ থেকে রোগব্যধির বিতাড়ন।” হাদীসটি সহীহ [4]

সাহাবীগণ কিয়ামুল্লাইল পরিত্যাগ পছন্দ করতেন না।

আয়েশা (রাঃ) বলেছেন,” কখনো কিয়ামুল্লাইল ত্যাগ করবে না; কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো তা ত্যাগ করতেন না। যদি কখনো অসুস্থ থাকতেন অথবা ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভব করতে তবে তিনি বসে তা আদায় করতেন। [5]

অনেক হাদীসে আমরা দেখতে পাই যে, কোন সাহাবী তাহাজ্জুদ পালনে সামান্য অবহেলা করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপত্তি করেছেন।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাধারণত বিতরসহ মোট ১১ রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন।

তিনি অধিকাংশ সময় শেষ রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। তিনি তাহাজ্জুদের আগে অনেক সময় কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করতেন। কখনো কিছু তাসবীহ তাহলীল ইত্যাদি যিকর করার পর তাহাজ্জুদ শরু করতেন। তিনি তাহাজ্জুদের সালাতের তিলাওয়াত খুব লম্বা করতেন। এক রাকাতে অনেক সময় ৪/৫ পারা কুরআন তিলাওয়াত করতেন ।রুকু ও সাজদাও অনুরূপ ভাবে দীর্ঘ করতেন। যতক্ষণ তিনি তিলাওয়াত করতেন প্রায় ততক্ষণ রুকুতে ও সাজদায় থাকতেন। আর তিলাওয়াতের সময় তিনি কুরআনের আয়াতের অর্থ অনুসারে থেমে থেমে দুআ করতেন। তাহাজ্জুদের সালাতের মধ্যে তিনি ক্রন্দন করতেন। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ আদায় করার কারণে অনেক সময় তাঁর মুবারাক পদযুগল ফুলে যেত।

আল্লাহর দরবারে সকাতরে প্রার্থনা করি তিনি যেন গোনাহগার লেখককে ও সকল পাঠককে তাঁর মহান রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাত অনুসারে তাহাজ্জুদ আদায়ের তাওফিক দান করেন; আমীন ।

প্রত্যেক মুমিনের উচিত তাহাজ্জুদ পালনে সচেষ্ট হওয়া। শেষ রাতে তাহাজ্জুদ আদায়ে অসুবিধা হলে প্রথম রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সাধ্যমত 2/4/6/8 রাকাত সালাত আদায় করে এরপর বিতর আদায় করবেন। এরপর মনের আবেগ ও ভালোবাসা দিয়ে আল্লাহর কাছে সারাদিনের নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, নিজের, বন্ধুদের ও শত্রুদের পাপের জন্য ক্ষমা চেয়ে, সমস্যাদির জন্য সাহায্য চেয়ে এবং তার সার্বিক রহমত ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করে ঘুমাতে যাবেন। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দান করেন।

[1] সুনানুত তিরমিযী ৫/৫৬৯, নং ৩৫৭৯ (৩৫৭৪), মুসতাদরাক হাকিম ১/৪৫৩, সহীহ ইবনু খুযাইমা ২/১৮২, জামিউল উসূল ৪/১৪৩-১৪৪

[2] মুসলিম, আস-সহীহ ২/৮২১

[3] তিরমিযী, আস-সুনান ৪/৬৫২

[4] তিরমিযী, আস-সুনান ৫/৫৫২, আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/৩২৮; সহীহুল জামি ২/৭৫২

[5] হাদীসটি সহীহ । সুনান আবী দাউদ ২/৩২, নং ১৩০৭, সহীহুত তারগীব ১/৩৩১
____________________________
____________________________

ℹ তাহাজ্জুদ নামাজ

কিয়ামুল্লাইল ও তাহাজ্জুদের গুরুত্ব ও মর্যাদা
_________________

বইঃ রাহে বেলায়াত
অধ্যায়ঃ তৃতীয় অধ্যায় – দৈনন্দিন যিকর ওযীফা
লেখকঃ ডঃ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহি)
_________________

‘কিয়ামুল্লাইল’ অর্থ রাতের কিয়াম বা রাত্রিকালীন দাঁড়ানো।

সালাতুল ইশার পর থেকে ফজরের ওয়াক্তের উন্মেষ পর্যন্ত সময়ে যে কোনো নফল সালাত আদায় করলে তা ‘কিয়ামুল্লাইল’ বা ‘সালাতুল্লাইল’ অর্থাৎ রাতের দাঁড়ানো বা রাতের সালাত বলে গণ্য।

‘তাহাজ্জুদ’ অর্থ ঘুম থেকে উঠা।

রাতে ঘুম থেকে উঠে আদায় করা সালাতকে তাহাজ্জুদ বলা হয়। কেউ যদি ইশার সালাত আদায় করে রাত ৯টা বা ১০টায় ঘুময়ে পড়েন এবং ১১/১২টায় উঠে নফল সালাত আদায় করেন তবে তা ‘কিয়ামুল্লাইল’ ও ‘তাহাজ্জুদ’ বলে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে কেউ যদি ইশার পরে না ঘুমিয়ে রাত ১১/১২ টার দিকে কিছু নফল সালাত আদায় করেন তবে তা ‘কিয়ামুল্লাইল’ বলে গণ্য হলেও ‘তাহাজ্জুদ’ বলে গণ্য নয়।

ইসলামের অন্যতম নফল ইবাদত কিয়ামুল্লাইল। প্রথম রাতে বা শেষ রাতে, ঘুমানোর আগে বা ঘুম থেকে উঠে অন্তত কিছু নফল সালাত আদায় করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। একটু ঘুমিয়ে উঠে ‘তাহাজ্জুদ’-রূপে কিয়ামুল্লাইল আদায় করলে তার সাওয়াব ও মর্যাদা বেশি। রাতের শেষভাগে তা আদায় করা সর্বোত্তম। তৃতীয় অধ্যায়ে আমরা দেখেছি যে, রাতের শেষভাগ রহমত, বরকত ও ইবাদত কবুলের জন্য সর্বোত্তম সময়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণ সাধারণত এ সময়েই কিয়ামুল্লাইল আদায় করতেন।

কুরআন কারীমে কোনো নফল সালাতের উল্লেখ করা হয়নি, এমনকি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতেরও বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু তাহাজ্জুদের সালাতের কথা বারংবার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ও মুমিন জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন ও হাদীসের নির্দেশনার দিকে দৃষ্টি দিলে আমরা নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারি যে, রাতের একাকী মুহূর্তে কিছু সময় আল্লাহর যিকরে, তার সাথে মুনাজাতে এবং তাঁরই (আল্লাহর) ইবাদতে ব্যয় করা মুমিনের জীবনের অবিচেছদ্য অংশ।

কিয়ামুল্লাইল বা সালাতুল্লাইলের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) এত বেশি নির্দেশনা দিয়েছেন যে, এ বিষয়ে বর্ণিত সহীহ হাদীসগুলি একত্রিত করলে একটি বৃহদাকৃতি পুস্তকে পরিণত হবে। এ বিষয়ে কয়েকটি হাদীস ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে দু‘আ কবুলের সময়ের আলোচনায় আমরা দেখেছি যে, আমর ইবনু আমবাসাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “মহান প্রতিপালক তাঁর বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন রাতের শেষ অংশে। কাজেই তুমি যদি সে সময়ে আল্লাহর যিকরকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পার তবে তা হবে।”

এক হাদীসে আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

أفضل الصلاة بعد الصلاة المكتوبة (صلاة الليل) الصلاة في جوف الليل

“ফরয সালাতের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ সালাত রাতের সালাত বা রাতের গভীরে আদায়কৃত সালাত।”[1]

অন্য হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,

أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشوا السَّلامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوا باللَّيْل وَالنَّاسُ نِيامٌ، تَدخُلُوا الجَنَّةَ بِسَلامٍ

“হে মানুষেরা তোমরা সালামের প্রচলন কর, খাদ্য প্রদান কর, আত্মীয়তা রক্ষা কর এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় কর, তাহলে তোমরা শান্তিতে নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” হাদীসটি সহীহ।[2]

আবূ উমামা বাহিলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,

عليكم بقيام الليل؛ فإنه دأب الصالحين قبلكم، وقربة إلى ربكم ومكفرة للسيئات، ومنهاة عن الإثم ومطردة للداء عن الجسدز

“তোমরা অবশ্যই কিয়ামুল্লাইল পালন করবে। কারণ তা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককার মানুষদের অভ্যাস, তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের নৈকট্য, পাপের ক্ষমা, পাপ থেকে আত্মরক্ষার পথ এবং দেহ থেকে রোগব্যধির বিতাড়ন।” হাদীসটি সহীহ।[3]

সাহাবীগণ কিয়ামুল্লাইল পরিত্যাগ পছনদ করতেন না। আয়েশা (রাঃ) বলেছেন:

لَا تَدَعْ قِيَامَ اللَّيْلِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَدَعُهُ وَكَانَ إِذَا مَرِضَ أَوْ كَسِلَ صَلَّى قَاعِدًا

কখনো কিয়ামুল্লাইল ত্যাগ করবে না; কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো তা ত্যাগ করতেন না। যদি কখনো অসুস্থ থাকতেন অথবা কিছুটা ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভব করতেন তাহলে তিনি বসে তা আদায় করতেন।”[4]

অনেক হাদীসে আমরা দেখতে পাই যে, কোনো সাহাবী তাহাজ্জুদ পালনে সামান্য অবহেলা করলে রাসূলুল্লাহ (সা.) আপত্তি করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ‘বিতর’-সহ মোট এগার রাক’আত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। তিনি অধিকাংশ সময় শেষ রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। তিনি তাহাজ্জুদের আগে অনেক সময় কুর’আনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করতেন। কখনো কিছু তাসবীহ, তাহলীল ইত্যাদি যিকর করার পর তাহাজ্জুদ শুরু করতেন। তিনি তাহাজ্জুদের সালাতের তিলাওয়াত খুব লম্বা করতেন। এক রাক’আতে অনেক সময় ৪/৫ পারা কুরআন তিলাওয়াত করতেন। রুকু ও সাজদাও অনুরূপভাবে দীর্ঘ করতেন। যতক্ষণ তিনি তিলাওয়াত করতেন প্রায় ততক্ষণ রুকুতে ও সাজদায় থাকতেন। আর তিলাওয়াতের সময় তিনি কুরআনের আয়াতের অর্থ অনুসারে থেমে থেমে দু’আ করতেন। তাহাজ্জুদের সালাতের মধ্যে তিনি ক্রন্দন করতেন। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ আদায় করার কারণে অনেক সময় তাঁর মুবারক পদযুগল ফুলে যেত। আল্লাহর দরবারে সকাতরে প্রার্থনা করি, তিনি যেন গোনাহগার লেখককে ও সকল পাঠককে তাঁর মহান রাসূল (সা.)-এর সুন্নাত অনুসারে তাহাজ্জুদ আদায়ের তাওফীক দান করেন; আমীন।

[1] মুসলিম, আস-সহীহ ২/৮২১। [2] তিরমিযী, আস-সুনান ৪/৬৫২। [3] তিরমিযী, আস-সুনান ৫/৫৫২; আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/৩২৮, সহীহুল জামি ২/৭৫২। [4] হাদিসটি সহীহ। সুনানু আবী দাউদ ২/৩২, নং ১৩০৭, সহীহুত তারগীব ১/৩৩১।

____________________________

ℹ তাহাজ্জুদ নামায

জিজ্ঞাসা–৩০৩: তাহাজ্জুদ এর নামাজ কী? কিভাবে, কত রাকাত আদায় করবো? এর ফজিলত কী?– রাফি: arrafikhan786@gmail.com

🚩জবাব:

⭕এক. তাহাজ্জুদ নফল-শ্রেণীর নামায। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَمِنَ ٱلَّيۡلِ فَتَهَجَّدۡ بِهِۦ نَافِلَةٗ لَّكَ عَسَىٰٓ أَن يَبۡعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامٗا مَّحۡمُودٗا

অর্থাৎ রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম কর; এটা তোমার জন্য নফল তথা অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে। (সূরা বানী ইসরাইল :৭৯ )

⭕দুই. যেহেতু তাহাজ্জুদ নফল নামায তাই আপনি যত পড়তে চান-নিষেধ নেই। তবে রাসূল ﷺ সাধারণত আট রাকাত পড়তেন। যেমন, হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً ـ تَعْنِي فِي اللَّيلِ ـ يَسْجُدُ السَّجْدَةَ مِنْ ذَلِكَ قَدْرَ مَا يَقْرَأُ أَحَدُكُمْ خَمْسِينَ آيَةً قَبْلَ أَنْ يَرْفَعَ رَأسَهُ، وَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الفَجْرِ، ثُمَّ يَضْطَجِعُ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ حَتَّى يَأتِيَهُ المُنَادِي للصَلاَةِ

আয়েশা রাযি. হতে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ এগার রাকাত (আট রাকাত তাহাজ্জুদ এবং তিন রাকাত বিতর) নামায পড়তেন, অর্থাৎ রাতে। তিনি মাথা তোলার পূর্বে এত দীর্ঘ সেজদা করতেন যে, ততক্ষণে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারবে। আর ফরয নামাযের পূর্বে দু’ রাকাত সুন্নত নামায পড়ে ডান পাশে শুয়ে আরাম করতেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর নিকট নামাযের ঘোষণাকারী এসে হাযির হত।’ (সহীহুল বুখারী ৬২৬, ৯৯৪, ১১২৩, ১১৩৯, ১১৪০, ১১৬০, ১১৬৫, ৬৩১০)

আট রাকাতের কম পড়লে তা তাহাজ্জুদ হবে না, বিষয়টি এমনও নয়। বরং দুই রাকাত পড়লেও তা তাহাজ্জুদ নামায হিসেবেই গণ্য হবে। সময় কম থাকলে দুই রাকাত পড়তে পারেন। যেমন, হাদীসে এসেছে,

عَنْ أَبي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالاَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: إِذَا أَيْقَظَ الرَّجُلُ أهْلَهُ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّيَا – أَوْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ جَمِيعاً، كُتِبَا فِي الذَّاكِرِينَ وَالذَّاكِرَاتِ

আবূ সাঈদ রাযি. হতে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে রাতে জাগিয়ে উভয়ে নামায পড়ে অথবা তারা উভয়ে দু’ রাকআত করে নামায আদায় করে, তবে তাদেরকে (অতীব) যিকিরকারী ও যিকিরকারিনীদের দলে লিপিবদ্ধ করা হয়।” (আবূ দাউদ: ১৩০৯, ইবনু মাজাহ :১৩৩৫ )

আর নফল নামাযের নিয়ত চার রাকাত করেও করা যায়, দুই রাকাত করেও করা যায়। তবে রাতের নামাযে দুই রাকাত করে নিয়ত করা উত্তম। কেননা আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাযি. থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, নবী ﷺ বলেছেন, صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى রাতের নামায দু’ দু’ রাকাত করে। (সহীহুল বুখারী: ৪৭২, ৯৯৩,১১৩৭, মুসলিম: ৭৪৯)

⭕তিন. বহু হাদীসে এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে দু’টি হাদীস পেশ করা হল-

عَنْ عَبدِ اللهِ بنِ سَلاَمٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ: أَفْشُوا السَّلاَمَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُوا الجَنَّةَ بِسَلاَمٍ

আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. হতে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন, “হে লোক সকল! তোমরা ব্যাপকভাবে সালাম প্রচার কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্ন দাও এবং লোকে যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকবে তখন নামায পড়। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (তিরমিযী: ২৪৮৫, ইবনু মাজাহ: ১৩৩৪, ৩২৫১)

وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ: شَهْرُ اللهِ المُحَرَّمُ، وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الفَرِيضَةِ: صَلاَةُ اللَّيْلِ

আবূ হুরাইরা রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “রমযান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররমের রোযা। আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হচ্ছে রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায।” (মুসলিম: ১১৬৩, তিরমিযী: ৪৩৮, ৭৪০, আবূ দাউদ: ২৪২৯)

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

_________________________

ℹতাহাজ্জুদ ও বিতির নামাজে উচ্চস্বরে কেরাত পড়া যাবে কিনা?

জিজ্ঞাসা–৩২৩: আসসালামুআলাইকুম। হযরত, আমি কি রাতের তাহাজ্জুদ/বিতির নামাজে কেরাত জোড়ে পড়তে পারি? কেননা যখন আমি নিরিবিলিতে একা এসব নামাজ আদায় করি তখন আস্তে কেরাতের মনোযোগ চেয়ে জোরে কেরাত পড়লে বেশি মনোযোগী হতে পারি। মেহেরবানী করে জানাবেন।–মুহাম্মদ মেহেদী হাসান: mehedi101h@gmail.com

🚩জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

দিনের নফল নামাযে নিম্নস্বরে কেরাত পড়া ওয়াজিব। রাতের নফল নামাযে উচ্চস্বরে ও নিম্নস্বরে দুভাবেই পড়া যায়। তাবিঈ হাকিম ইবন ই’কাল রহ. দিনের নামাযে উচ্চস্বরে কেরাত পা থেকে নিষেধ করতেন এবং বলতেন, يَرْفَعُ بِاللَّيْلِ إِنْ شَاءَ রাতের নামাযে ইচ্ছে হলে উচ্চস্বরে পড়বে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৩৬৭১)

তবে রাতের নফল নামাযে অন্তত এই পরিমাণ উচ্চস্বরে পড়া উত্তম, যাতে নিজে স্পষ্ট শুনতে পায়। হাসান বসরী রহ. বলেন,صَلَاةُ النَّهَارِ عَجْمَاءُ، وَصَلَاةُ اللَّيْلِ تُسْمِعُ أُذُنَيْكَ দিনের নামায নিম্নস্বরের এবং রাতের নামায তোমার কানকে শুনাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৩৬৬৪)

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, সুতরাং মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য আপনি রাতের তাহাজ্জুদ/বিতিরে উচ্চস্বরে কেরাত পড়তে পারেন। বরং এটাই উত্তম।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

________________________
____________________________________

#তাহাজ্জুদ_নামাযের_ফজিলত_ও_নিয়ম

তাহাজ্জুদের নামায অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও ফযিলতপূর্ণ ইবাদত। তাহাজ্জুদ নফল নামায।

রাসুলু্ল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ নামায নিয়মিত পড়তেন এবং সাহাবায়ে কেরাম( রা.) কে তা নিয়মিত আদায় করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন।

পবিত্র কুরআনে তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য বিশেষভাবে তাকিদ করা হয়েছে।

যেহেতু উম্মতকে নবীর অনুসরণ করার হুকুম করা হয়েছে সে জন্যে তাহাজ্জুদের এ তাকীদ পরোক্ষভাবে গোটা উম্মতের জন্য করা হয়েছে।

“আল্লাহপাক ইরশাদ করেন- “এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদের নামায পড়তে থাক। এ নামায তোমার জন্যে আল্লাহর অতিরিক্ত ফযল ও করম। শীঘ্রই আল্লাহ তোমাকে উভয় জগতে বাঞ্ছিত মর্যাদায় ভূষিত করবেন। [বণী ইসরাইল :৭৯]

যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামায আদায় করে কুরআনে তাদেরকে মুহসেন ও মুত্তাকি নামে অভিহিত করে তাদেরকে আল্লাহর রহমত এবং আখেরাতে চিরন্তন সুখ সম্পদের অধিকারী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

তিনি ইরশাদ করেন- “নিশ্চয়ই মুত্তাকি লোক বাগ-বাগিচায় এবং ঝর্ণার আনন্দ উপভোগ করতে থাকবে এবং যে যে নিয়ামত তাদের প্রভূ তাদেরকে দিতে থাকবেন সেগুলো তারা গ্রহণ করবে। কারণ, নিঃসন্দেহে তারা এর পূর্বে (দুনিয়ার জীবনে) মুহসেনীন (বড় নেক্কার) ছিল। তারা রাতের খুব অল্প অংশেই ঘুমাতো এবং শেষ রাতে ইস্তেগফার করতো। (কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে মাগফেরাত চাইতো)”।
[সূরা যারিয়াত:১৫-১৮]

প্রকৃতপক্ষে তাহাজ্জুদ নামায মন ও চরিত্রকে নির্মল ও পবিত্র করার এবং সত্য পথে অবিচল থাকার জন্যে অপরিহার্য ও কার্যকর পন্থা।

আল্লাহপাক বলেন- “বস্তুতঃ রাতে ঘুম থেকে উঠা মনকে দমিত করার জন্যে খুব বেশি কার্যকর এবং সে সময়ের কুরআন পাঠ বা যিকির একেবারে যথার্থ”। [সূরা মুয্যাম্মিল-৬]

এসব বান্দাদেরকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাঁর প্রিয় বান্দা বলেছেন এবং নেকি ও ঈমানদারির সাক্ষ্য দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা যারা তাদের প্রতিপালকের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়।
[সূরা ফুরকান:৬৩-৬৪]

☞ #তাহাজ্জুদের_গুরুত্ব_ও_ফযীলতঃ

ফরয নামাজের পর অন্যান্য সুন্নাত ও নফল সব নামাযের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ফযীলত সবচেয়ে বেশী (আহমাদ, মেশকাত ১১০ পৃঃ)

রাসুল (সাঃ) বলেন, আমাদের প্রভু পরওয়ারদিগার তাবারাকা ওয়া তা’আলা প্রত্যেক রাত্রে দুনিয়ার আসমানে (যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়) নেমে আসেন যখন রাত্রের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকে ।
অতঃপর তিনি বলেন, তোমাদের কে আমাকে ডাকবে! আমি তার ডাকে সাড়া দেব । কে আমার কাছে কিছু চাইবে আমি তাকে তা দেব, কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব
(মুসলিম, মেশকাত ১০৯ পৃঃ)

রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদের নামায পড়ে এবং সে তার স্ত্রীকেও ঘুম থেকে জাগিয়ে নামায পড়ায় এমনকি সে যদি জেগে না উঠে, তবে তার মুখে খানিকটা পানি ছিটিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতি আল্লাহ রহমত বর্ষণ করে থাকেন । অনুরুপ কোন মহিলা যদি রাত্রিকালে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে এবং সে তার স্বামীকে নামাযের জন্য জাগায় এমনকি স্বামী না জাগলে স্ত্রী তার মুখে পানি ছিটিয়ে তার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতিও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে থাকে
(আবু দাউদ, নাসায়ী, মেশকাত ১০৯ পৃঃ)

রাসুল (সাঃ) বলেন, আল্লাহর নিকট অতি প্রিয় নামায দাউদ (আঃ) এর নামায । তিনি অর্ধেক রাত ঘুমাতেন এবং রাতেন তৃতীয় ভাগে নামাযে দাঁড়াতেন আর ৬ষ্ঠ ভাগে আবার ঘুমাতেন
(বুখারী, মুসলিম, মেশকাত ১০৯ পৃঃ)

☞ #তাহাজ্জুদ_নামাযের_ওয়াক্তঃ

তাহাজ্জুদের অর্থ হল ঘুম থেকে উঠা। কুরআনে রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদের যে তাকীদ করা হয়েছে তার মর্ম এই যে, রাতের কিছু অংশ ঘুমিয়ে থাকার পর উঠে নামায পড়া।
তাহাজ্জুদের মসনূন সময় এই যে, এশার নামাযের পর লোকেরা ঘুমাবে। তারপর অর্ধেক রাতের পর উঠে নামায পড়বে। নবী (সাঃ) কখনো মধ্য রাতে, কখনো তার কিছু আগে অথবা পরে ঘুম থেকে উঠতেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে সূরা আলে-ইমরানের শেষ রুকুর কয়েক আয়াত পড়তেন। তারপর মেসওয়াক ও অযু করে নামায পড়তেন।

☞ #তাহাজ্জুদ_নামাযের_সময়ঃ

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ থেকে ফজর পর্যন্ত। সময়ের হিসাব এড়াতে আমরা রাত ৩টা থেকে শুরু করে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পড়তে পারি।

তবে ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকলে ইশা সালাত শেষে দুই রাকআত সুন্নত এরপর ও বিতরের আগে তা পড়ে নেয়া জায়েয আছে।

তবে পরিপূর্ণ তাহাজ্জুতের মর্যাদা পেতে হলে, এশার নামাযের পর ঘুমিয়ে রাত ২টা বা ৩টার দিকে উঠে নামায আদায় করতে হবে।

☞ #তাহাজ্জুদ_নামাযের_রাকআত_সংখ্যাঃ

সর্ব নিম্ন দু রাকআত। আর সর্বোচ্চ ৮ রাকআত পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের ৮ রাকাত নামায আদায় করার পরে, বিতর ৩রাকাত নামায পড়া।

রাসুল (সাঃ) তাহাজ্জুদের নামায বেশিরভাগ সময় ৮রাকাত পরতেন এবং এর পর বিতরের নামায পরে মোট ১১রাকাত পূর্ণ করতেন।

১। তাহাজ্জুদ নামায বিতরসহ ১৩, ১১, ৯ কিংবা ৭ রাকাত পড়া যায় (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত ১০৬ পৃঃ)

২। প্রথমে দু’রাকাত ছোট ছোট সুরা মিলিয়ে হালকাভাবে পড়ে আরম্ভ করবে (মুসলিম, মেশকাত ১০৬ পৃঃ)

৩। অতঃপর দু’রাকাত করে, তাহাজ্জুদের নামায সাত রাকাত পড়তে চাইলে দু’সালামে চার রাকাত পড়ে তিন রাকাত বিতর পড়বে । (বুখারী, মেশকাত ১০৬ পৃঃ)

🚫বিঃদ্রঃ- যদি এশার নামায পরে বিতরের নামায পড়ে থাকেন, তবে তাহাজ্জুত নামায পড়ার পরে বিতর নামায পড়ার দরকার নেই। তখন ২ রাকাত থেকে শুরু করে ৮রাকাত তাহাজ্জুত নামায পরলেই হবে।

☞ #তাহাজ্জুদ_নামাযের_আগে_করণীয়ঃ

হুযাইফা (রাযিঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) যখন তাহাজ্জুদ পড়তে উঠতেন তখন মিসওয়াক করতেন এবং আমাদেরকেও মিসওয়াক করার হুকুম দেয়া হত, আমরা যখন তাহাজ্জুদ পড়তে উঠতাম, অতঃপর নবী (সাঃ) অযু করতেন (মুসলিম) । তারপর নীচের দু’আ ও তাসবীহগুলি দশবার করে পড়তেন । তারপর নামায শুরু করতেন (আবু দাউদ, মেশকাত ১০৮ পৃঃ)

(১) দশবার “আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ)
(২) দশবার আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যই)
(৩) দশবার সুব্‌হানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী (আমি আল্লাহ প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা ঘোষনা করছি)
(৪) দশবার সুব্‌হানাল মালিকিল কদ্দুস (আমি মহা পবিত্র মালিকের গুণগান করছি)
(৫) দশবার আসতাগফিরুলাহ (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করছি)
(৬) দশবার লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু (আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কেউ নেই)
(৭) দশবার আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন দীক্বিদ্দুনিয়া ওয়া দীক্বি ইয়াওমিল ক্বিয়ামাহ
(হে আল্লাহ! আমি এই জগতের এবং পরকালের সঙ্কট থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি)

☞ #তাহাজ্জুদ_পড়ার_নিয়মঃ

তাহাজ্জুদ নামায পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন সুরা নেই। যে কোন সুরা দিয়েই এই নামায আদায় করা যাবে। তবে যদি বড় সুরা বা আয়াত মুখুস্ত থাকে তবে, সেগুলো দিয়ে পড়াই উত্তম।

কারন রাসুল (সাঃ) সব সময় বড় বড় সুরা দিয়ে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করতেন। তাই আমাদেরও বড় সুরা মুখুস্ত করে, তা দিয়ে তাহাজ্জুত নামাদ আদায় করা উচিৎ।

যাইহোক, বড় সুরা মুখুস্ত না থাকলে যে কোন সুরা দিয়েই নামায আদায় করা যাবে। নিয়ম হল ২রাকাত করে করে, এই নামায আদায় করা। প্রত্যেক রাকাতে সুরা ফাতিহা পড়ার পর, অন্য যে কোন সুরা মিলানো। এভাবেই নামায আদায় করতে হবে।

আল্লাহ, আমাদের সবাইকে তাহাজ্জুদের পরিপূর্ণ মর্যাদা লাভ করার তৌফিক দান করুন ।
আমিন।।

Collected

_________

⭕সারকথাঃ

🔹1) তাহাজ্জুদ নামায নফল বা সুন্নাত একটা বললেই হবে।

👉2) তাহাজ্জুদের শর্ত হলো ঘুম থেকে উঠে পড়তে হবে। না ঘুমিয়ে পড়লে তা হবে কিয়ামুল্লাইল বা সালাতুল্লাইল ।

যারা ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ নামায পড়তে পারেন না তারা ঘুমানোর আগে পড়ে নিবেন। যদিও তা তাহাজ্জুদ হবে না কিন্তু কিয়ামুল্লাইল বা সালাতুল্লাইলও অনেক ফযীলতপূর্ণ।

এর মানে এই নয় যে আপনি তাহাজ্জুদের জন্য চেষ্টা করবেন না । প্রতিদিন কিয়ামুল্লাইল বা সালাতুল্লাইল ই পড়বেন। বরং আপনি অবশ্যই চেষ্টা করবেন তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য ।

🔹3) ২ রাকাত করে ৮ রাকাত নামায পড়বেন যে কোন সূরা দিয়ে ।

নিয়ত এভাবে মনে মনে করবেন দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নামায পড়ছি। সুন্নাত বা নফল যে কোন একটা বলতে পারেন ।

আর যারা কিয়ামুল্লাইল বা সালাতুল্লাইল পড়বেন তারা মনে মনে নিয়ত করবেন দুই রাকাত নফল নামায পড়ছি।

👉4) যারা তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত হবেন না তারা ইশার পর বিতর পড়ে নিবেন। যখন থেকে তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত হবেন তখন থেকে বিতর তাহাজ্জুদের পর পড়বেন ।

আর যারা কিয়ামুল্লাইল বা সালাতুল্লাইল পড়বেন তারা ইশার পর বিতর পড়বেন না। কিয়ামুল্লাইল বা সালাতুল্লাইলের পর বিতর পড়বেন।

🔹5) এ নামায একবার পড়লে সারাজীবন পড়তে হয় এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং যখন পারবেন পড়বেন আর যখন পারবেন না তখন পড়বেন না।

এ নামায অন্ধকারে পড়তে হয় এটাও ঠিক নয়। বরং সব নামাজ ই এত টুকু আলোতে পড়তে হবে যাতে কোন দিকে সেজদা দিচ্ছেন সেটা যেন বুঝতে পারেন।

👉6) জিন ভূতের কথা বলে অনেকেই ভয় পায়। এগুলো মনের ভয় ছাড়া আর কিছু নয়। রাতের বেলা পৃথিবী শান্ত হয়ে যায় । চারদিকে সবাই ঘুম। তখন আসে পাশের ছোট কোন আওয়াজও অনেক বড় শোনা যায়। রাতের পাখি বা বিড়াল কুকুরের ডাক শুনে ভয় পায় অনেকেই। এগুলো কিছুই নয়।

আপনি একটা কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস রাখবেন । আসমান জমিনের সকল সৃষ্টির মালিক আল্লাহ । ভাগ্যের মালিকও আল্লাহ । আর আল্লাহ পাক না চাইলে কেউ কখনোই কোন ভাবেই ক্ষতি করতে পারবে না। আর আপনি সেই আল্লাহর খুশির জন্য আরামের ঘুম বাদ দিয়ে তাঁর ইবাদাতে নিমগ্ন হবেন। ভাবুন একবার তাহলে আপনার সাথে কে আছে।

আপনার যদি বিপদ থাকে তাহলে তাহাজ্জুদ না পড়ে ঘুমিয়ে থাকলেও হবে।

আপনার মনের বিশ্বাস বাড়াতে হবে। যাদের মনে ভয়ের বিশ্বাস বেশি তারা এমনিতেই ভয় পায়।

আর একটা কাজ করতে পারেন কয়েক দিন রাতে উঠে বাড়ির আশেপাশে কিছুক্ষণ হাটাহাটি করতে পারেন। দেখুন তো কোন কিছু খুঁজে পান কি না।

রাতের বেলা আমরা অনেক সময় কিছু দেখেই ভয় পায়। আসলে সেটা কোন গাছ বা কোন বস্তু হবে। অন্ধকারে ভালো ভাবে দেখা যাচ্ছে না । নিজের মনের অজান্তেই একটা ভয় তৈরি হয়ে যায়।

অনেক সময় বাতাস ফাপা কোন বোতল বা হাড়ের মধ্যে দিয়ে গেলে শো শো শব্দ শোনা যায়। এগুলো ভয়ের কিছু নয়।

আল্লাহর উপর ভরসা রেখে তাহাজ্জুদের নামায পড়া শুরু করুন।
___________________

যাঝাকুমুল্লাহু_খইরন ।।